Gen Z যখন Gen Alpha-র বাবা-মা
— আফসানা ইয়াসমিন অর্থি
একটা অদ্ভুত সময়ের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আজকের Gen Z-রা, যারা নিজেরাই প্রযুক্তি, সামাজিক পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্বাধীন চিন্তার মধ্যে বড় হয়েছে, তারাই ধীরে ধীরে Gen Alpha-র বাবা-মা হবে।
তখন বাবা-মা আর সন্তানের সম্পর্কটা কেমন হবে? Gen Z বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে একটি বিষয়—তারা নিজেরাও এমন এক প্রজন্ম, যারা পুরোনো parenting-এর অনেক সীমাবদ্ধতা খুব কাছ থেকে দেখেছে।তারা জানে, শুধু “আমি বাবা-মা, তাই আমার কথা শুনবে” দিয়ে সন্তানকে বড় করা যায় না। তারা জানে, সন্তানকে ভয় দেখিয়ে হয়তো কিছু সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু তার মনের দরজা খোলা যায় না।
Gen Z নিজের শৈশবে হয়তো শুনেছে, “চুপ করো”, “বড়দের সামনে কথা বলতে নেই”, “অমুকের ছেলে-মেয়েকে দেখো”, “এত প্রশ্ন করো কেন?”তাই যখন তারা Gen Alpha-র বাবা-মা হবে, তখন হয়তো বলবে, “তুমি প্রশ্ন করতে পারো।” এই পরিবর্তনটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ Gen Alpha এমন এক প্রজন্ম, যারা জন্ম থেকেই ডিজিটাল পৃথিবীর মধ্যে বড় হচ্ছে। তাদের কাছে AI, স্মার্টফোন, ট্যাব, গেমিং, YouTube, সোশ্যাল মিডিয়া বা ভার্চুয়াল জগত অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারা এমন পৃথিবীতে বড় হবে যেখানে তথ্যের অভাব নেই, বরং কোন তথ্য সত্য আর কোনটা মিথ্যা—সেটা বোঝাই বড় চ্যালেঞ্জ।
Gen Z বাবা-মায়ের সামনে তাই parenting-এর নতুন পরীক্ষা থাকবে। শুধু সন্তানকে ফোন থেকে দূরে রাখা নয়, তাকে প্রযুক্তি ব্যবহারের দায়িত্ব শেখাতে হবে। শুধু ভালো নম্বর নয়, তাকে সমস্যা সমাধান করতে শেখাতে হবে।শুধু চাকরি পাওয়ার প্রস্তুতি নয়, তাকে পরিবর্তনশীল পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে নিজের আবেগ বুঝতে শেখাতে হবে।
Gen Z নিজের জীবনে mental health নিয়ে অনেক বেশি কথা বলেছে। ফলে তাদের সন্তান যদি একদিন বলে, “আমার খুব খারাপ লাগছে”, তখন আশা করা যায় তারা শুধু বলবে না, “এতটুকু ব্যাপারে মন খারাপ করার কী আছে?”বরং হয়তো জিজ্ঞেস করবে, “কী হয়েছে? বলো, আমি শুনছি।” এটাই হবে বড় পরিবর্তন। তবে এখানে একটা বিপদও আছে।
Gen Z বাবা-মা যেন parenting করতে গিয়ে অতিরিক্ত permissive না হয়ে যায়। সন্তানকে বোঝা আর সন্তানের সব দাবি মেনে নেওয়া এক জিনিস নয়। ভালো parenting মানে সন্তানকে সবকিছু করতে দেওয়া নয়। বরং কোথায় স্বাধীনতা দিতে হবে এবং কোথায় সীমা তৈরি করতে হবে, সেটা বুঝতে পারা।
Gen Alpha-কে হয়তো Gen Z বাবা-মা বলবে, “তোমার feelings গুরুত্বপূর্ণ।” কিন্তু একই সঙ্গে তাকে এটাও শেখাতে হবে, “তোমার feelings গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তোমার আচরণেরও দায়িত্ব আছে।” তুমি রাগ করতে পারো, কিন্তু কাউকে আঘাত করতে পারো না। তুমি ব্যর্থ হতে পারো, কিন্তু চেষ্টা ছেড়ে দিতে পারো না। তুমি নিজের মতামত রাখতে পারো, কিন্তু অন্যের মতামতকে অসম্মান করতে পারো না। তুমি স্বাধীন হতে পারো, কিন্তু দায়িত্বহীন হতে পারো না। এটাই হবে ভবিষ্যতের parenting-এর সবচেয়ে বড় ভারসাম্য। আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—Gen Z বাবা-মা যেন নিজেদের অপূর্ণ শৈশবের প্রতিশোধ সন্তানের ওপর না নেয়।
কেউ যদি ছোটবেলায় ভালোবাসা না পেয়ে থাকে, সে যেন সন্তানের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা পাওয়ার দাবি না করে। কেউ যদি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে না পারে, সে যেন সন্তানের ওপর নিজের স্বপ্ন চাপিয়ে না দেয়। সন্তান আপনার দ্বিতীয় জীবন নয়। সে আলাদা একজন মানুষ। তার নিজের পছন্দ থাকবে, নিজের ভয় থাকবে, নিজের প্রতিভা থাকবে, নিজের ভুল থাকবে।
Gen Z যদি এটা বুঝতে পারে, তাহলে তারা হয়তো এমন একটা parenting culture তৈরি করতে পারবে যেখানে সন্তান বাবা-মাকে ভয় পাবে না, আবার বাবা-মাকেও অগ্রাহ্য করবে না। সম্পর্কটা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ, কিন্তু সীমাহীন নয়। ভালোবাসাপূর্ণ, কিন্তু দুর্বল নয়। স্বাধীন, কিন্তু দায়িত্বহীন নয়।
Gen Alpha হয়তো একদিন তাদের Gen Z বাবা-মাকে বলবে, “তোমরা আমাদের বুঝতে পারো।”আর সেটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।কারণ ভালো বাবা-মা হওয়ার অর্থ নিখুঁত হওয়া নয়।ভালো বাবা-মা হওয়া মানে প্রতিদিন নিজের সন্তানকে নতুন করে বোঝার চেষ্টা করা।
Gen Z যদি তাদের সন্তানদের শুধু সফল মানুষ নয়, ভালো মানুষ হিসেবে বড় করতে পারে, তাহলে এই প্রজন্মের parenting সত্যিই আলাদা হবে।কারণ সন্তানকে পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করার আগে তাকে এমন একটি ঘর দিতে হয়, যেখানে সে ব্যর্থ হতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে, কাঁদতে পারে, নিজের কথা বলতে পারে এবং আবার উঠে দাঁড়াতে পারে।
হয়তো Gen Z বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হবে—
“আমার সন্তান আমার কথা শুধু মানবে না, আমার সঙ্গে কথা বলবে।”আর এই একটি পরিবর্তনই হয়তো ভবিষ্যতের বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ককে অনেক বেশি মানবিক করে তুলবে।

