নিঃশব্দ ভ্রুকুটি
— এস এম আজাদ হোসেন
তুমি কিছু বলোনি,
শুধু একবার
ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছিলে।
সেই দৃষ্টিটুকুই
সারাদিন আমার সঙ্গে ছিল।
কথার চেয়ে
কখনো কখনো
নীরবতা বেশি স্পষ্ট।
একটি প্রশ্নের উত্তর
দেওয়া যায়,
একটি অভিযোগেরও
ব্যাখ্যা থাকে।
কিন্তু নিঃশব্দ ভ্রুকুটির
কোনো অভিধান নেই,
তার অর্থ
নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।
অফিসের টেবিলে
একজন সহকর্মীর নীরবতা,
বাড়িতে প্রিয় মানুষের
হঠাৎ কমে যাওয়া কথা,
বন্ধুর বার্তায়
অকারণ সংক্ষিপ্ততা-
সবকিছু মিলিয়ে
মানুষ নিজের ভেতরেই
একটি আদালত বসায়।
সে ভাবে-
আমি কি ভুল করেছি?
একটি সম্পর্কের সবচেয়ে
কঠিন সময় হয়তো তখনই,
যখন কেউ রাগ করে না,
শুধু দূরে সরে যায়।
কারণ রাগের মধ্যে
ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে,
নীরবতার মধ্যে
থাকে অনিশ্চয়তা।
তবু সব ভ্রুকুটি
অভিমান নয়,
কখনো তা ক্লান্তি,
কখনো আত্মরক্ষা,
কখনো নিজের সঙ্গে
লড়াইয়ের চিহ্ন।
তাই প্রতিটি নীরবতাকে
অপরাধ বলে পড়ো না।
মানুষের মুখে
অনেক অপ্রকাশিত ঋতু থাকে,
সব ঋতুর নাম
শব্দে লেখা যায় না।
কখনো কাছে গিয়ে
শুধু বলো-
কী হয়েছে?
হয়তো দেখবে,
একটি নিঃশব্দ ভ্রুকুটির পেছনে
লুকিয়ে ছিল
শুধু একটু বোঝা হওয়ার
অপেক্ষা।

