সেনবাগের দুই নক্ষত্র
মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান
সেনবাগের মাটিতে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানো,
স্মৃতির পাতায় আজও তাঁদের নাম অম্লান।
দুই পরিবারের দুই নক্ষত্র, দুই দীপ্তিমান রতন,
কীর্তির আলোয় তাঁরা আজও অমর, চিরন্তন।
অর্জুনতলা পঞ্চায়েত-বাড়ির গৌরবময় সন্তান,
গোলাম মোস্তফা—জ্ঞানজগতে উজ্জ্বল এক নাম।
সেনবাগের মুসলিম সমাজের প্রথম এম.এ. উত্তীর্ণ,
শিক্ষাক্ষেত্রে রেখে গেছেন অমর অবদান।
সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে সততা ও নিষ্ঠায়,
মানুষের সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জ্ঞান, মেধা ও কর্মনিষ্ঠায় অনন্য এই মানুষ,
সেনবাগের ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছেন।
গোরকাটা পণ্ডিতবাড়ির কৃতী সন্তান,
মো. শেখ সাদেক—ন্যায়ের পথে অবিচল মহান।
সেনবাগের প্রথম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে,
বিচারক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করেছেন ন্যায় ও সততার দৃষ্টান্ত।
গোলাম মোস্তফা ও মো. শেখ সাদেক ছিলেন শ্বশুর-জামাই।
একজন শিক্ষাক্ষেত্রে, অন্যজন বিচারক্ষেত্রে অবদান রেখে
সেনবাগের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন।
তাঁদের আত্মীয়তা ও কীর্তি আজও স্মরণীয়।
নোয়াখালীর খাঁন বাহাদুর পরিবারের সঙ্গেও
ছিল তাঁদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক।
গোলাম মোস্তফা ছিলেন ওই পরিবারের মেয়ের জামাই,
আর মো. শেখ সাদেক ছিলেন নাতিন জামাই।
এই পারিবারিক সম্পর্ক তাঁদের স্মৃতিকে আরও তাৎপর্যময় করেছে।
আজ তাঁরা নেই—নিভে গেছে দুটি দীপ্ত আলোকশিখা,
তবু তাঁদের কীর্তি কালের স্রোতে মুছে যায়নি।
মানুষ চলে যায়, থেকে যায় কর্মের অমর স্বাক্ষর;
তাঁদের স্মৃতিতে আজও গর্বিত সেনবাগবাসী।
হে মহান দুই রত্ন, শ্রদ্ধায় নত মোর শির,
আপনাদের কীর্তি থাকবে যুগের পর যুগ স্থির।
সেনবাগের ইতিহাসে জ্বলবে আপনাদের নাম,
দুই নক্ষত্র হয়ে থাকবেন—চিরকাল দীপ্তিমান।

