কবি জামিল জাহাঙ্গীর’র কবিতাগুচ্ছ :
১. দুধসাদা পাখি ও নীরবতা
নীরবতার চেয়ে
দুধসাদা কোনো পাখি নেই,
যার পালকে
বেঁধে দেবো মায়াঘুঙুর।
পায়রা
ঠিকানা ভুল করতেই পারে—
আফিমের ঘোর কেটে
সেও খুঁজে পাবে নিজস্ব নীল।
দিকভ্রান্তের আছে
দিকবিদিক হবার নেশা।
চাইলেই বৃক্ষেরা বনসাই হবে—
বিষয় তেমন নয়।
কিছু কিছু চোখ
পাতাজোড়া করেই দেখে,
মেললেই উড়ে যায়
অপার দৃষ্টি—
এরই নাম মুগ্ধতা।
২. পাপের বাপ
টি স্টলে একসঙ্গে
টোস্ট খাচ্ছিলেন
শ্রীমান এরিস্টটল
চায়ে চিনি কম দেয়ায়
দোকানির সঙ্গে সে কী রাগ!
সুগার কর্পোরেশনের
সদরদফতর বানাবো ঠোঁটে
চাপে চাপে গুড়ের থুথুতে
ভাসিয়ে দেবো বুড়িগঙ্গা…
আমি আর এরিস্টটল
এক ঠোঙ্গায় বাদাম খাবো
ছিলে দিয়ে যা ব্যাটা ইবলিস
তোর নাম্বার লিখেও রাখি না…
গতরাতে
পাপ কল দিয়েছিলো
বাপ সম্বোধন করায়
কেটে দিয়েছি।
৩. অং নমো সংস্থিতা
এখানে আগুন জ্বলে বৃষ্টিমাখা ফুরফুরে
কাঁচামিঠে হীরে দ্যুতি মগ্নপ্রভা মধ্যহ্রদ
কেউ ভিজে যায় কেউ বেদম পুড়ে
জাম্বুরান ছুটে চলে আগুন প্রবাহী…
আঙ্গুলে আঙ্গুলে খেলা করে ভেষজ বিন্যাস
ছিলা ও নারকেল টিকলি ও টঙ্কর
হৃদয়ের চেয়ে ভারীপোশাকে কে লুকোয় না
কার কার জামার হাতায় মেরুন রঙের ধড়পড়!
পিনিক চত্বর ধাপকি ধুপকি এভিনিউ
রিজলাপুর রোড পাড়া নাকানিচুবানি
আমরা সবাই রাজ্য সকলের এক মহারাণী…
উত্তর দিয়া আইলো মেঘ দক্ষিণ থেইকা ঝড়
আয় মা কালির দিব্যি জলের ভিতরে পড়
গনেশ জানে এর মানে পিয়া পিনিক শান
আয় মদিরা নৃত্য ধুমল ভাসান আকাশযান…
তম্র তন্তুর ধিনাক ধিন অঙ্গারে অঙ্গারে ভুক
এই ভুলচুক মিটে গেলে রক্তপাত বেড়ে যায়
ইন্নং রিন্নং অমৃতা বাইবেল ত্রিপিটক
কুরআন ও গীতা অং নমো সংস্থিতা
অং নমো সংস্থিতা…

