মেয়ে তুমি
তাহেরা আখতার চৌধুরী
জন্মলগ্ন থেকেই তুমি
বড্ড নাজুক মেয়ে,
অন্দর-বাহিরের ধর্ষক রয়
তোমার পানে চেয়ে।
সুযোগ পেলেই হানবে আঘাত
তোমার যোনিতে
হও না তুমি দুধের শিশু,
পরিণত নারীতে।
মেয়ে তুমি ছ’মাসের শিশু,
তাইতে হলো কী ?
নারীর মতো যোনি পথ
তোমার নয় কী?
বিকৃত পূর্ণবয়স্ক ধর্ষকের
সুযোগ তখনই আসে,
তোমার মা বা আপন কেউ
নেই তোমারই পাশে।
কান্না শুনে দৌড়ে আসে
অভাগী মেয়ের মা
ন্যাপীর আচ্ছাদনের তলে
রক্তাক্ত তকমা।
মেয়ে তুমি যদি বা হও
দুই-পাঁচ বছুরে শিশু
ব্লেডের ব্যবহারেও ধর্ষক
অভিজ্ঞ আর পটু।
অপরিণত শরীর তোমার,
সমস্যা তার নেই;
মিটাতে হবে যৌনক্ষুধা,
চায় যে এতটুকুই।
ধর্ষণ শেষে মৃত্যু যদি
থাকে নিয়তিতে ,
তোমার বাঁচা মরা যেন
ধর্ষকেরই হাতে।
মেয়ে তুমি বলো এখন,
আপন তোমার কে?
অন্ধ বিশ্বাস নিকটাত্মীয়
বাবা ও ভাইকে?
লুকিয়ে থাকে ধর্ষক যদি
আপনজন আড়ালে
পাবে কি তুমি খুঁজে তাকে
নোংরা ছোঁয়া দিলে?
আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়
অতি আপন কাজিন,
পরশি আর বন্ধুর সাথে
ঘুরে বেড়াও স্বাধীন?
খালু, ফুপা, গাড়িচালক
কিংবা ঘরের চাকর
দেবর, বেয়াই, ভাগ্নে, ভাইপো,
শ্বশুর কিংবা ভাশুর।
তোমার সরলতার সুযোগ
কেউ যদি বা নেয়,
অমানুষ আর এই সমাজ যে
তোমাকেই দায় দেয়।
মেয়ে তুমি নও নিরাপদ
কোন বিদ্যাপিঠে
স্কুল, কলেজ, কোচিং
কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শিক্ষক নামক শিক্ষাগুর
নীতি যায় হারিয়ে,
রূপক ধর্ষক খেলতে যে চায়
তোমার শরীর নিয়ে।
বাসে, ট্রেনে নিজ ঘরেতে
নিরাপদ তুমি কোথায়?
ধর্ষণের শিকার হতে পারো,
তুমি যথায় তথায়।
মেয়ে তুমি চাকরিতে যাও,
নও নিরাপদ সেথা
বস রূপের ধর্ষক তোমায়
করবে যে ইশারা ।
শরীর যদি না দাও তুমি,
পড়বে ব্যাপক প্যাঁচে,
নিরাপত্তার বেষ্টনী কি
তোমার কাছে আছে?
তোমার কলিগ নেই পিছিয়ে
পরকীয়াতে মজতে,
তোমার প্রেমিক চাইবে তোমার
দেহের মজা লুটতে।
আবেগ বশে দিয়ো না মেয়ে
আত্ম বিসর্জন,
নতুন করে নিজের সম্মান
করে নিয়ো অর্জন।
দিয়ো না সাড়া যখন তখন
ডাকবে পুরুষ কেউ,
জেনো তুমি চারিদিকে
ছড়িয়ে থাকে ফেউ।
শরীরটাকে ছিনিয়ে নিলে
চিৎকার করো জোরে।
দোষটা তোমার নয় তো মেয়ে,
দোষ যদিও ঘাড়ে।
মেয়ে তোমায় শিখতে হবে
আত্মরক্ষার কৌশল
মুছে ফেলো আজ বেদনায় ভরা
লুকানো চোখের জল।
মেয়ে তুমি নিজের বলে
হও আজ বলীয়ান,
মিথ্যের কাছে সত্যের নয়তো
হবে যে মহাপ্রয়ান।

