১) পরিবেশ
আলেয়া মান্নান
চেয়ে যদি দেখো ভাই, সকাল কিবা বিকেলে।
থৈ থৈ করে শুধু পানি খালে বিলে।
জলবায়ু দূষিত, গ্রাম এবং শহর।
বন্যার ভয়ে কাতর হয়ে, আছে কত অন্তর।
কখন যেনো ঝড় এসে, উড়িয়ে নেয় বাসা।
আল্লাহর উপর ভরসা করে, বাঁচিবার আশা।
ঢালু অঞ্চলে কত মানুষ, বসত করে ভাই।
পানির বুকে বাস করিবার, একমাত্র তাদের ঠাঁই।
শত কষ্ট করে ওরা, সাহস রাখে মনে।
বেঁচে থাকে যুদ্ধ করে, খরা বন্যার সনে।
ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে, ভাঙে বাড়ি ঘর।
কারো জীবন কেড়ে নিয়ে, কাউকে করে পর।
দূষিত পানি বিভিন্ন রোগে, বাসা বাঁধে বুকে।
স্বাস্থ্য সেবার অভাবে, মরে কত লোকে।
তীব্র শীতেও বহু লোকের, জীবন দিতে হয়।
সারা বছর থাকে যেন, মনে ভীষণ ভয়।
আবার যখন খরা এসে, ফসল করে নষ্ট।
নিরুপায় হয়ে মানুষগুলো, ভাবনাতেই পায় কষ্ট।
রাস্তা-ঘাটেও শান্তি নেই, মানুষ চলার পথে।
হাট-বাজারে টানাপোড়া, কারো মাছে ভাতে।
কিছু সময় বধির অবস্থা, হতে হয় মোদের।
চারদিকে শুনি আওয়াজ, শব্দ দূষণের।
পরিবেশ-পরিস্থিতি, এমন বেহাল দশা।
কারো কষ্ট নিয়ে আবার, করে কেউ তামাশা।
২) ভবের বাজার
আলেয়া মান্নান
সত্য-মিথ্যে, জ্ঞান-বুদ্ধি, বিকায় হাজার হাজার।
আপন দেহও পণ্যরূপে, ভবের এই বাজার।
কৌশলে নিত্য নতুন, করে যাচ্ছে সওদা।
নিজের ছায়াও বিকাচ্ছে কেহ, লুটে নিতে ফায়দা।
খাবারে দেয় ফরমালিন, পচন ধরে দেহে।
মনের ভিতর দালালি, মিষ্টি কথা কহে।
ভবের এই হাট-বাজারে, মানুষ নিজেই পণ্য।
নিজেকে নিজে বিকিয়ে দিয়ে, কেমনে হবে ধন্য?
ভবের এই রঙ-বাজারে, কত রঙের মানুষ।
বুঝিতে পারি না ভাই, মানুষ কিবা অমানুষ।
বিবেক-বুদ্ধি লুপ্ত এখন, ভবের এই হাটে।
নিজ হাতে মান-কুলমান, ডুবিয়ে দিচ্ছে ঘাটে।
অন্তরেতে বিষ রেখে, উপরে দেখায় ভালো।
নিজেই সে নিভিয়ে দিচ্ছে, নিজ পথের আলো।
ভবের এই হাট-বাজার, কত যে বিচিত্র।
বুঝে ওঠার সাধ্য নাই, কাহার কেমন চরিত্র।
ভবের হাটের রঙ-বাজারে, কত কিছুই দেখি।
এই জীবনে আরও কিছু, দেখার আছে বাকি?

