এই শহরের ইতিক কানিজ ফাতেমা এ শহরে চাঁদও উঠে ফুলও ফোটে পথের ধারে এ শহরে ফাগুন আসে আগুন হাসে বছর ঘুরে, এ শহরের জ্বলন্ত রূপ চার দেয়ালে বিবেকটা চুপ এ শহরে সুখ খুঁজে ফেরা মানুষ জ্বলে ঠিক যেন ধুপ। এখানে ইট পাথরে গজিয়ে ওঠা তাসের ঘর এ শহর কাঁচের শহর ঠুনকো বহর মানুষ পর, এখানে শব্দ ভীষণ স্তব্ধ জীবন নীরব মরণ এ শহর মন্দ ভালোর দ্বন্দ্ব যত করছে বরণ। এখানে দেখতে ভালো চোখ ধাঁধানো রঙিন আলো তবু মন খুঁজে ফিরে প্রদীপ জ্বলা সন্ধ্যা কালো। ঝিঁঝিঁ পোকার গানের সাথে মাতাল করা উষ্ম হাওয়া বৃষ্টি ভেজা মাটির সুবাস এই শহরে যায় না…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
প্রেম বিরহ। ফরিদা বেগম 26 /11 /2021 কলেজের চৌকাট পেরিয়ে সেদিন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলাম, দূর থেকে দেখি নীল শার্ট পরা তুমি, পাশ দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ একটু থমকে গেলে। মৃদু হেসে কুশল বিনিময়ের ছলে আমাকে জেনে নিলে_ তোমার মায়াবী চোখে চোখ পড়তেই, আমি হারিয়ে গেলাম তোমার চোখে। আস্তে আস্তে তুমি কখন যেন আমার সান্নিধ্যে অতঃপর মনের গহীনে গভীরে। ভালোলাগা আর ভালোবাসায় আমাকে ভরে দিলে বললে, রাজশ্রী নায়িকা তুমি_ ফুল ফসলের দিনে আমরা হব অমর সঙ্গী। এভাবে কেটে গেল বহুটা সময়, কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে, কখনো সবুজ বনের ছায়, কিংবা কখনো বালুচরে। পাশাপাশি দুজনে আনন্দে দিশাহারা, গান , কবিতায় ভরে গেল…
দৃঢ়তাই শক্তি তসলিমা হাসান যতোবার চাও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে যতোই আগুনের তাপে দগ্ধ করো আমায়, পারবে না কিছুতেই, পারবে না কেশাগ্র ছুঁতে আমার। বারংবার আমি ফিনিক্স পাখির মতো জন্ম নেবো ডানা,পালক, বাসা সব কিছু থেকেই নতুনরূপে জন্ম নেবো। অন্ধকারে ডুবে যাওয়া এই আমি আলোর সাথে মিতালী আমার, আলোয় আলোয় মাখামাখি, আগুনের সাথে মিতালী আমার আগুনেতে তাই থাকি নির্ভার। যতই চাবুকের আঘাতে করো জর্জরিত সে আঘাতে প্রলেপ পড়ে যাবে। পারবে না কিছুতেই টলাতে পিরামিডের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে রইব, একচুল ও নড়াতে পারবে না আমায়। পারবে কি করে বলো! ভেতরের মিথ্যে শক্তির জোড় কি করে পারে এই দৃঢ় প্রত্যেয়ের মনোবলে আঘাত…
হেমন্তের ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা: গতকাল ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে বাংলাদেশ শিশুসাহিত্যিক ফোরাম আয়োজিত ‘হেমন্তের ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও কবি-সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে শনিবার বিকেলে পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। লেখক-কবিরা হেমন্ত ঋতু নিয়ে বাঙালি জীবনে এই ঋতুর গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্লেষণমূলক বক্তব্য দেন এবং ছড়া-কবিতা ও গদ্য পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, শাহেদ ইকবাল, প্রণব মজুমদার, মোজাম্মেল হক নিয়োগী, জামাল রেজা, শাহাদাত হোসেন নিপু, জিন্নাহ চৌধুরী, শারমিন সুলতানা রীনা, শামীমা চৌধুরী, নুরুন্নাহার ডলি, অমিত কুমার কুণ্ডু, রথীন্দ্রনাথ সরকার, তাহমিনা…
লেখা আহ্বান: কালের প্রতিবিম্ব (ম্যাগাজিন): বিজয় দিবস সংখ্যা (বিশেষ সংখ্যা); আসছে,,,,, দেশ বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় শিল্প-সাহিত্যের কাগজ; সাজানো হয়েছে নান্দনিক কিছু বিভাগ নিয়ে: নিয়মিত বিভাগসমূহ : শিশুতোষ ছড়া/অংকন, কবিতার আসর, ছড়ার সমাহার, নারী জগৎ, প্রবাসীদের কথা, আত্মকথন, প্রবন্ধ/নিবন্ধ/মুক্ত গদ্য, রম্য, ভ্রমণ কাহিনি, ধর্ম ও দর্শন, ইতিহাস ইত্যাদি। নিয়মিত লেখক: আসাদ চৌধুরী, নির্মলেন্দু গুণ, মুহম্মদ নূরুল হুদা, আসলাম সানী, রেজাউদ্দিন স্টালিন, মাইন উদ্দিন আহমেদ, হুমায়ূন কবীর ঢালী, তসলিমা হাসান, ইমরোজ সোহেল, রেজাউল করিম মুকুল’সহ আরো অনেকে। আপনিও আপনার সেরা লেখাটি (অপ্রকাশিত) পাঠাতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে (লেখার শুরুতে):- লেখার শিরোনাম: লেখকের নাম: লেখার বিভাগ/ধরন : লেখার শেষে লেখকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ফোন…
দীর্ঘ সাত বছর পর শহরের ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে অনির সাথে অরুর হঠাৎ দেখা। দীর্ঘ সাত বছর পর অরুকে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না অনি।হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটি এত্ত বছর পর চোখের সামনে! বিধ্বস্ত কোলাহল ময় শহর হঠাৎ যেন এক নিমিষেই স্তব্ধ হয়ে গেল। সোডিয়াম আলোয় বিস্মিত চোখে তাকালো অনি। হুম ওটা অন্য কেউ নয় অরুই। সে কিছুটা বিস্মিত কিছুটা মর্মাহত। অনি স্তম্ভিত হয়ে দাড়িয়ে আছে। কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা সংশয়ে। সে কি পিছু ডাকবে নাকি তাকে যেতে দেবে। যেমন যেতে সাত বছর আগেও দিয়ে ছিলো। একবার ধরে রাখতে না পারলে মানুষ বার বার চলে যায়। আর যে একবার চলে…
আসুক নতুন ভোর নাসরীন জামান হেমন্তের কুয়াশাচ্ছন্ন হীম হীম ভোর মাড়িয়ে পূব দিকের চারতলা বিল্ডিংয়ের মাথাটা ছাড়িয়ে নরোম রোদটা এলো আমার চারতলার বারান্দায়। আমাকে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ উষ্ণতা দিবে বলে। আমার হাতে তখন রুদ্র গোস্বামীর “তবুও বৃষ্টি নামুক” চোখে তখন একটি পূর্ণ রাত জাগার ক্লান্তি ভীষণ। আমি ঘুমাতে চাই, ঘুমাতে পারি না, আমি কবিতা পড়তে চাই, দূর ছাই, মন বসে না। আমার মন জুড়ে তখন একবিংশ শতাব্দীর অস্থিরতা আমার চোখ জুড়ে তখন উদভ্রান্ত নাগরিক সভ্যতা। সকালের নরোম রোদটা আস্তে আস্তে চড়া হয়, আমারও তখন ক’খানা কবিতা পড়া হয়, কি পড়ি ছাই, বুঝলাম না তার কিছুই। হঠাৎ কানে আসে ছাই বিক্রেতা…
শাহ্ নাজমুল। বৃষ্টি বৃষ্টিতে ছেয়ে গেল ভেজা ভেজা মাঠটা একটানা ঝরে জল আষাঢ়ের রাতটা। ধীরে ধীরে পানিতে ভরে গেল খালবিল ভরে গেল দীঘিটা পাহাড়ী সব ঝিল। শীত শীত মজাদার শুধু ঘুম পাচ্ছে ইমাটা বসে বসে অবিরাম হাচছে। শুয়ে শুয়ে নাকে আসে খিচুড়ির গন্ধ কিযে মজা, চারমাস লেখাপড়া বন্ধ। ঝরঝর বর্ষন ভরে যায় দেহ মন স্বপ্নেরা ভীড় করে হয়ে যাই উম্মন। জানালার পাশ থেকে ধূসর দূর গাঁ কক কক করে এক ডেকে ওঠে মুরগা। জবুথবু আমগাছ যেন ঠায় ধুকছে মিরা কাকা বসে বসে বিড়িটা ফুঁকছে। করোনার এই কালে আষাঢ়ের বরষা ধীরে ধীরে সব দিক হয়ে গেল ফরসা।
আঁখি সপ্ত স্নিগ্ধ তোমার নীলিমা আঁখি মনের ছায়ায় কখনো দেখি সুখের প্রদীপ্ত আশা। আবার কখনো বেদনার করুণ স্পর্শ ধ্বনি তোমার আঁখি কখনো মায়াময়ী। আবার কখনো জমাট বাঁধানো অনেক বিদ্রোহ। তোমার আঁখি কখনো একগুচ্ছ ভালোবাসার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত, ভোরের শিশিরভেজা গোলাপের মতো। তোমার আঁখি সুদূর নক্ষত্র বিস্তৃত। তোমার আঁখি বেঁচে থাক চিরকাল। যাত্রী ব্যস্ততার মাঝে উঠলাম বাসে। হঠাৎ চোখ পড়লো তোমার নয়নে প্রথম দেখা হয়নি কোন কলেজে। তুমি ছিলে সজনে সারাক্ষণ ভালোবাসার অভিব্যক্তি ছিল যে মনে। তোমাকে নিয়ে ঘর বাধবো ছিল যে স্বপ্নে। আস্তে আস্তে বাস ছুটে চললো দ্রুত পানে এলোকেশে চুলগুলো শ্বেত কপোতের মত উড়ছিল আপন মনে। কথা বলার সুযোগ…
স্বাধীনতা মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার মিলিত শ্রোতধারায় জয়বাংলার মোহনায় বসে কাঁদে কে? র্জীণশীর্ণ শরীরে, ভয়ার্ত ও ভীত মন নিয়ে মুজিবের বাংলায় বসে কাঁদছো কেন বাবা, কি হয়েছে তোমার? কি নাম তোমার, কোথা থেকে এলে? নাম আমার -‘স্বাধীনতা’, এসেছি সৈয়দ সামছুল হকের আমার পরিচয় কবিতা থেকে। এসেছি আমি ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দু’লক্ষ নারীর সম্ভ্রমে, অগুণিত মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবের তর্জনে। সুধাও কেন এত কথা? দেখছো না নয়ন খুলে, মুজিবের বাংলায় কাঁদছে বসে মুক্তির সন্তান, শহীদ সন্তানের চোখের জলে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় বইছে কত বান। রক্তের দামে, সম্ভ্রমের দামে কিনেছো- ‘এ বাংলা’ বিশ্ব মানচিত্র থেকে, লালা টিপ পড়ে এসেছিলাম এই সবুজের পানে,…
