পটে আঁকা জীবন মরিয়ম লিপি জীবন ছিল পটে আঁকা ছবি আঁধারে আঁধারে হয়েছে জলচ্ছবি, এখন আর স্বপ্নগুলো রঙিন হয়ে ধরা দেয় না অস্পৃষ্ট এই হৃদয়ে ভরে উঠে ধুলোপড়া মূুর্তির মতন। আঁখিজল জমে হয়েছে অট্টালিকার প্রলেপ রুদ্রজ্বালে বুনেছি যে মালা ভাসিয়েছি আজ তা প্রেমহীন ভেলাভূমিতে, মৌনতা ভিড় করে অন্ধকূপ হতে স্মৃতিকথা ম্লান হয়ে যায় একাকীত্বের ঘরে, আর কতকাল ভাসাবো এই হৃদয় শূন্যতার হাহাকারে, তুমিহীন এই জীবন কতটা আশ্রয়হীন সে কথা শুধু বিধাতাই বুঝে।
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
আজ ফকির লালন শা্হ-এর ১৩১তম প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। লালন (জন্ম: ১৭৭২ – মৃত্যু: ১৭ অক্টোবর, ১৮৯০)[২] ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি;যিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত।[৩] তিনি একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক।তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন।লালনকে বাউল গানের অগ্রদূতদের অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৪][৫] তার গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।তাকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।[৬] লালন ফকির সাঁই, শাহ (ফার্সি ভাষায় سای) লালনের জীবদ্দশায় তৈরি করা একমাত্র চিত্র, ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে এঁকেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্ম লালন…
তোমার জন্য রাজিনা চৌধুরী। কবিতার প্রতিটি লাইন তোমার জন্য আনি বর্ণমরমরে। তুমি রয়েছো ঘিরে আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে। শুধু তোমার জন্য আমার হৃদয়ে প্রতিটি স্পন্দন। সুখ দুঃখ নিয়ে এই পৃথীবিতে বর্তমান আমি। বেঁচে থাকার আনন্দ শুধু যে তুমি আমার। সব মহা সমুদ্র পাড়ি দিতে পারি অনায়াসে তোমার জন্য। তোমার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই চাঁদের জ্যোৎস্নায় স্পষ্ট। আকাশ ভরা তারা সারা রাত জেগে থেকে তোমার জন্য, ফুলে ফুলে শোভা পায় কিশলয় যার অঙ্কুরোদগমনের পর। আমি তোমার জন্য তপস্যা করতে পারি এক জনম। করতে পারি অপেক্ষা সাত জনম। বাঁচতে পারবো না কিন্তু তোমাকে হারিয়ে। আমি স্বপ্নে বিভোর হই তোমাকে পাশে পেতে, তোমার জন্য ঘনবারি…
কথার কথা হোসনে আরা জেমী কত কথাই বলার ছিল; সব কথা হয় না বলা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই মাঝেমাঝে সেই আবেশে ভাবতে থাকি, কেমন করে কথা না বলে থাকতে পারো কত কথা শুনবে বলো, সুখের কথা, দুখের কথা, ব্যথা-বেদনার কথা, কাব্যকথা, স্বপ্নকথা, স্বপ্ন ভাঙ্গার কথা, ভালোলাগা ভালোবাসার কথা, অনুভবের কথা; আবেগ অনুভূতির কথা, জীবনের গল্পকথা, নানানকথা, দশের কথা, দশের কথা কথায় কথা রাখবার কথা অনেক কথাই বলার ছিল, শুনবে বলে , কত কথা বলা হলো, শুনলে বলে ! নানা কথা আবোল তাবোল বলেই গেলাম তারপর রয়ে গেলো অনেক কথা; না বলা কথা। ব্যাথার কথা আছে অনেক; ব্যাথা শেষে রইলো পরে কথার…
কবির মাহমুদ-এর শিশুতোষ ছড়ার সমাহার ১) আমার এই দেশ পাখিদের কলরবে ওঠে রোজ রবি সবুজের বুকে হাসে শেফালির ছবি। কৃষকের মুখে হাসি হলুদের মাঠে খুকাখুকি বই হাতে বসে রোজ পাঠে। ফুল ফুটে ফুল বাগে দোয়েলের গানে, শত নদী বয়ে যায় কল-কলতানে। মাঠ ঘাট ছায়াঘেরা সবুজের হাসি, আমার এই দেশটারে কতো ভালোবাসি। ২) খাঁচার পাখি বন্দী কেন? খাঁচার ভেতর পাখি কেন ওদের বন্দী করে রাখি? চায় না ওরা আদর ভালোবাসা চায় না এমন সুখের স্বর্গে হাসা। যতই আদর করো না তার সনে মন টিকে না, চায় যেতে তার বনে। তার ঠোঁটে আজ নেই বুলি কি সাধে? খাঁচা থেকে মুক্তি পেতে…
রাত্রি নামে রূপালী ডানায় ফেরদৌসী বেগম চিলের ডানায় সন্ধ্যা নামে সোনালি রেখা আকাশের কোলে গোধূলির আবীর ছুঁয়ে যায় ঝাউ বীথিকায়। পাখির কিচির মিচির ময়ূর যুগলের আসা যাওয়া কিছু কথা তখনও বাকী কিছু ভাষা লুকিয়েছে পাতায়। অপেক্ষমান প্রেমিকের মতো রাত্রি নামে ধীরে ধীরে নিরবে শত কোটি বছর কি পৃথিবী এভাবেই ঘুমাবে? এভাবেই হবে পারাপার কিছু কথা রয়ে যায় নির্বাক নদীর মতো। নদীও বোঝে দুঃখের কাব্য যতটুকু বুঝে অনুভবে তার চেয়ে বেশি স্পর্শে। একদিন নদীকে ছুঁয়ে বলবো- এই জমিনের ঘাসগুলো জরাগ্রস্হ মেরুর শীতলতায় কুণ্ডলিত, ভাবনাগুলো অগোছালো অবাধ্য কেশের মতো, সুখগুলো ক্ষণস্হায়ী পাতার মতো আলগা বাতাসেই ঝরে যায়, শুধু রাতের শশীই জানে কতটা…
মিষ্টি করে বলো যদি কাজী মোছাম্মৎ শামীমা আক্তার তারিখ-১৪/১০/২১ তুমি মিষ্টি করে বললে আমায় সব অভিমান ভুলি তখন। প্রেমের আবির ছড়িয়ে দিলে বাসলে ভালো আমায় যখন। হৃদয় মাঝে আছো তুমি আঁখি মেলে দেখে নিও। কেউ জানে না এ মন জানে মনের মাঝে তুমি প্রিয়। যেদিন তোমায় প্রথম দেখি এহাত রাখি তোমার হাতে। ভালোবাসার আবেশ জড়াই স্বপন রাখি আঁখিপাতে। জানাজানি নাইবা হলো জানুক শুধু অন্তর্যামী লোকচক্ষুর অন্তরালে এখন শুধু তুমি আমি।
কবিতা: আবাহন খায়রুল ইসলাম মামুন শোন হিন্দু, শোন মুসলিম; শোন বৌদ্ধ আর খৃষ্টান- পায়ের নিচে একই জমিন মোদের উপরে এক আসমান একই ধরনীর বায়ু আর একই ধরনীর জল করি পান, একই স্রষ্টার সৃষ্টি সবাই, ডাকি আল্লাহ অথবা ভগবান। কে জানে? কাহার কথা শোনেন ভগবানে- হয়তো মোদের বিবাদ দেখিয়া হাসছেন সাত আসমানে। সবার যিনি অন্নদাতা; ভালো মন্দের স্বামী- অযথা তাহারে তর্কে জড়াইয়া কেন হও আসামী? মন্দিরে বসে কেউ যদি পায় তার ভগবান- আল্লাহকে পেতে মসজীদে বসে, তুমি জপ তাহার নাম। গির্জায় বসে কেউ যদি পায় যীশুর বাবাকে খুঁজে, আমি তাকে বাধা দেবো কোন কাজে, কী বুঝে? পড়ে আছে কত কাজ মোদের,…
নির্বাক তাহেরা খাতুন বলবো না কোন কথা জানাবো না অভিযোগ অভিমান আর অনুরাগে পেতে তোমার মনোযোগ। কান্নার ভাষা বোঝনি তুমি বোঝবে কি করে নীরবতা বিবেকের দরজায় তালাবন্ধ চিৎকার করার বিফলতা। বালু দিয়ে হয় না ইমারত ভেঙ্গে যায় সে দেয়াল পরিমাণ সিমেন্ট কম হলে খসে পড়ে মিথ্যার আড়াল। ভুয়া কাহিনীতে হয়না ইতিহাস সত্যেকে আড়ালে ঢেকে প্রকাশিত হয় মূল আবরণে সত্যের সুন্দর আলোতে। যাবার বেলায় করি মিনতি জাগ্রত করো বিবেক নিজের কর্মে নিজের ধর্মে সত্যের পূর্ণতা জাগুক। রাত,১১.০০ ১৪.১০.২০২১
মানুষের রূপ কবির মাহমুদ বেজি দেখে সাপকে করে ফোঁস ফোঁস, নিজ গা ঢেকে রাখে অন্যের দোষ। হিংস্র পশু নয় তবু মাংসাশী? সুখ সেরে বিষ ঢেলে যায় হাসি হাসি। দানবের রূপ ঝেড়ে নেয় সুখ সেরে, সিংহের হুংকারে আসে খুব তেড়ে। শিয়ালের চালাকি কুকুরের ঘেউ, ভয় পায় পাশে এসে দাঁড়াতে কেউ। অন্যায় করেও নয় নত শির, বীর নয় তবু সে অলিখিত বীর! শুটকির পাহারায় বিড়ালের মিউ? দিয়ে যায় আদালতে ইন্টারভিউ! আর কতো নেবে বলো সাক্ষাৎকার? স্বার্থের পৃথিবীটা শুধুই অসাড়।
