শৈশব যখন নিরাপদ নয়
শাহিনা আফরোজ
এখনো ওর
মা ডাকে জড়িয়ে আসে উচ্চারণ,
পুতুলের বিয়ের আয়োজনে খোঁজে না না আভরণ!
তার হাসিতে উঠোন হাসে,
রঙ পেন্সিলে সূর্য
নদীর কেবল আঁক, দুটো আঁখি
মিষ্টি পাখির ভয়ের ছাঁপ সেই সুদূরে!
হঠাৎ একদিন
মুখোশ মানব জানোয়ার বটে,
ওর শৈশবটাকে ছিঁড়ে খেলো, নিষ্পাপ দৃষ্টি নরক কষ্ট দাগ।
হাত দুটি তার থরোথরো কম্পমান , চোখের তারা আতঙ্কিত নিয়ত!
তার ভীত মুখ খুঁঝতে চেয়েছিলো
ব্যথা উৎস কি?
সেদিন আকাশও কেঁদেছিল
ওর সাথে, দেয়ালে ঝুলে থাকা
স্কুলব্যাগটাও ঝুলছুলো বেশি কি?
রক্তমাখা ফ্রকটা নীরবে জিজ্ঞেস করেছিলো কি অপরাধ তার ?
মা যখন বুক চাপড়ে কাঁদে,
বাবার মাথা নিচু, কোথায় কবর হলো এক আকাশ স্বপ্নের?
পুরো সমাজ ভিড় করে শুধু
খবরের শিরোনামে,
কেউ ছবি তোলে, কেউ দু’ফোঁটা সমবেদনা বিলোয়!
যে দেশে রেপিস্টের পক্ষে
উকিল যুক্তি খোঁজে মিথ্যা,
এখানে সংবাদপত্র
একটি শিশুর কান্নাকে
মুখরোচক সওদা করে!
এখানে নারী ধর্ষণের পরও শতবার ধর্ষিত হয়,
মানুষের প্রশ্ন সমাজের দৃষ্টি দেয়
চরিত্রহীনতার অপবাদ।
এখানে বিচার চেয়ে কী হবে?
যেখানে অপরাধীর চেয়ে বেশি
কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় অত্যাচারিতকেই!
আমি বলতে চাই-
শিশুর নিরাপত্তা শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও দেশের।
কারণ একটি নীরবতা অসংখ্যের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

