সভ্যতার শূন্যতা
— আশিক উল্লাহ সুমন
আমরা নাকি শিক্ষিত জাতি, ডিগ্রিতে ভরা দেশ,
তবু কথার আঘাত হেনে ভাঙি সম্পর্কের রেশ।
জ্ঞান অর্জন করেছি, শিখেছি জয়ের গান,
শিখিনি শুধু মানুষকে দিতে ন্যূনতম সম্মান।
আমাদের বেশভূষায় আভিজাত্যের ছাপ,
অথচ আচরণে প্রতিদিন মনুষ্যত্বের ক্ষয়,
বাইরে যত সভ্যতার বিজ্ঞাপন ঝোলে,
ভেতরে তত শূন্যতা—কে তার হিসাব বলে?
কখন ফোন, কীভাবে কথা, কতটুকু অধিকার—
অন্যের সময় কেড়ে নেওয়াও যেন স্বাভাবিক ব্যবহার।
নিজের কথাই শেষ কথা, নিজের সুবিধাই নীতি,
অন্যের স্বস্তি বোঝার বেলায় কোথায় বিবেকের স্মৃতি?
খাবার টেবিল, পথের মোড়, কিংবা জনসমাগমে,
ব্যক্তিত্বের পরিচয় মেলে আচরণেরই ক্রমে।
কেউ জানে না সীমারেখা, কেউ মানে না মান,
নিজের স্বাধীনতা বোঝে, বোঝে না অন্যের সম্মান।
বয়সে বড় হলেই কি প্রাপ্য সব শ্রদ্ধা?
ছোট বলে কি তার প্রতি অবহেলা বৈধতা পায়?
শ্রদ্ধা আর আত্মমর্যাদা—দুটিই সমান সত্য,
সম্মান দিতে শিখতে হয়, বয়স নয় একমাত্র পথ।
স্কুল শেখায় সূত্র, কলেজ শেখায় তত্ত্ব,
বিশ্ববিদ্যালয় দেয় ডিগ্রি, খুলে দেয় জীবনের পথ।
কিন্তু শেখায় কে কখন থামতে হয় কথায়,
কীভাবে ভিন্নমতকে সম্মান দিতে হয়?
সভ্যতা কি পোশাক, পদ, নাকি ইংরেজি উচ্চারণ?
নাকি দুর্বলের অধিকারেও সমান মূল্যায়ন?
সভ্যতা হলো সেই বোধ, যা অহংকারকে থামায়,
নিজের আগে অন্যের মানুষ-পরিচয় চিনতে শেখায়।
হে সমাজ, আয়নার সামনে একবার দাঁড়াও,
অন্যের দোষ গোনার আগে নিজের হিসাব দাও।
কত ডিগ্রি অর্জন করলে, সে হিসাব থাক দূরে—
কতখানি মানুষ হলে, প্রশ্ন রাখো অন্তঃপুরে।
দেশের উন্নতি শুধু উঁচু দালান গড়া নয়,
সভ্যতার মাপকাঠি মানুষের আচরণময়।
শিক্ষিত হওয়া গৌরব, কিন্তু শেষ কথা নয়—
মানুষকে সম্মান করতে শেখাই সভ্যতার পরিচয়।

