১৯১ বার পড়া হয়েছে
ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ এবং ঢাকা কলেজের ইতিবৃত্ত
১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কলেজ। ১৮১ বছর বয়সের এই কলেজের মূল ফটকে দাঁড়ালে দেখতে পাবেন, ওপরে বড় করে লেখা ‘নো দাইসেলফ’ অর্থাৎ ‘নিজেকে জানো’। এটা পৃথিবীর প্রথম শিক্ষক সক্রেটিসের বানী, রোমের পথচারিকে পথরোধ করে তিনি শিখাতেন, টু ডু ওয়ান্স ডিউটি ইজ জাসটিজ। এ কারনে তাকে হত্যা করেছে তখনকার সমাজ। এই ১৮১ বছরে নিজেকে জানার প্রত্যয় নিয়ে এই কলেজে যারা পা রেখেছেন তারা গুণে মানে এবং সংখ্যায় আজ একটা ইতিহাস। আরও বড় ইতিহাস হলো মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্য বোসন কণার জন্ম হোয়েছিলো এই কার্জন হলের কোন একটি কক্ষে। সেই ইতিহাসের সাথে বড়ই বেমানান আজকের এই দৃশ্যটি-গেটের দিকে তাঁক করে একজন পুলিশ সদস্য গুলি চালাচ্ছেন। অগ্রজদের সম্মান রক্ষার দ্বায়িত্ব আমাদের সবার।

১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ এবং ইংল্যান্ডের রানী ১৯৪৭খ্রি. পর্যন্ত মোট ১৯০ বছর এদেশ শাসন করেছে বৃটিশরা। এ সময়ে ইংরেজরা এদেশে যা কিছু করেছে তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই করেছে। রেললাইন, রাস্তা, কিংবা স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা এরই একটি অংশ। ১৮৩৫খ্রি. বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রধান জনবহুল শহরে ইংরেজি এবং বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য কতগুলো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব পাঠানোর জন্যে লর্ড বেন্টিকের কাছ থেকে ঢাকার কর্মকর্তাদের একটি চিঠি দেয়া হয়। ঢাকার সে সময়ের সিভিল সার্জন ডা: জেমস টেইলার (Dr. James Tailer) দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী নামে একটি স্কুলের প্রস্তাব পাঠান সেটাই ছিলো ঢাকার প্রথম সরকারি স্কুল। ভারত বর্ষের প্রথম কলেজের নাম হিন্দু কলেজ, প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১৭ সালে। হিন্দু কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। যেটা পরে নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্সি কলেজ রাখা হয়েছে, আরো পরে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি। বাংলাদেশের প্রথম কলেজ ঢাকা কলেজ, ১৮৪১ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির আগে এই বঙ্গে কোনো কলেজ ছিল না।
ইংলিশ সেমিনারী সরকারি স্কুল। এই স্কুল থেকে পাস করার পর এখানকার ছাত্রদের যেতে হতো প্রেসিডেন্সি কলেজে বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে, সেটা ছিলো ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাই ইংলিশ সেমিনারী স্কুলের দ্বিতীয় তলায় তিনটা রুমের ঢাকা কলেজের যাত্রা শুরু হয়। অর্থাৎ ইংলিশ সেমিনারী স্কুলের ক্লাস হত নিচতলায় আর ঢাকা কলেজের ক্লাস নেওয়া হত দ্বিতীয় তলায়। কলেজের সাথে স্কুল তাই ইংলিশ সেমিনারী স্কলের নাম বদলে রাখা হলো ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। দুই-তিন বছরের মধ্যে ঢাকা কলেজের নিজস্ব ভবন তৈরি হলো বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে। ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২০ নভেম্বর কলকাতার তৎকালীন বিশপ রেভারেন্ড ড্যানিয়েল “ঢাকা কলেজ” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বুড়িগঙ্গার তীরে। স্থপতি কর্নেল গ্যাসর্টিন, এর নকশা তৈরি করেন। বুড়িগঙ্গার নদী ভাঙ্গনের শিকার হোতে পারে বিবেচনায় ঢাকা শহরের আরও ভিতরে চলে আসে ঢাকা কলেজ এখন যেখানে কবি নজরুল কলেজ। এরপরে আজকের কার্জন হলে। আজকের যে কার্জন হল, সেটাই ছিলো সেদিন ঢাকা কলেজ। ১১৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত কার্জন হলটি নিজে উদ্বোধন করে ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৪খ্রি.। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ যখন এই কার্জন হলে তার বক্তিতায় উর্দ্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এখান থেকেই প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। আর ঢাকা কলেজের জন্ম হয়েছে ১৮৪১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৫৭ সালে। এই বছর ঢাকা কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স শুরু হয়। ঢাকা কলেজের ছাত্র শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যখন আন্দোলন করেছিল তখন ঢাকা কলেজের বয়স ৮০ বছর। ঢাকা কলেজ থেকে পাস করে অনেকেরই উচ্চতর ডিগ্রির জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সামর্থ ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে ঢাকা কলেজ তাঁর ফিজিক্স, বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, বোটানির সব ল্যাব, লাইব্রেরি এমনকি কিছু শিক্ষকও ছেড়ে দিয়ে ঢাকা কলেজ হাইকোর্টের পুরনো একটি বিল্ডিংয়ে চলে আসে। আপনারা
তখনও ঢাকা কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিলো। পল্টন থেকে আর্মিরা চলে গেলে মাঠটি ঢাকা কলেজের খেলার মাঠ, বৃটিশ লেফ্টন্যান্ট গভর্নরের প্যারেড গ্রাউন্ড, ক্রিকেট খেলার মাঠ এবং আরো অনেক পরে জনসভার বিরাট ঐতিহাসিক পল্টন ময়দান পরিনত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন হওয়ার কারণে সবাই ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে চাইতো। কারণ ঢাকা কলেজের সার্টিফিকেট দেয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি উৎসাহ ও আগ্রহী করতে ১৯২২ সাল থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা কলেজ অনার্স-মাস্টার্সে ভর্তি বন্ধ করে দেয় এবং এ বছরই ঢাকা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে আর্মিরা ঢাকা কলেজের সব ভবন দখল করে নেয়, ফলে আবার ঢাকা কলেজকে চলে আসতে হয় সিদ্দিক বাজারের কয়েকটা ভাড়া বাড়িতে। সেখানে কয়েকটা হোস্টেলও ছিল, এরই একটি হোস্টেলে থাকতেন ঢাকা কলেজের এক ছাত্র আব্দুল গাফফার চৌধুরি, ভাষা সৈনিক ও ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গা একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচিয়তা, এখন তিনি ইংল্যান্ড প্রবাসী।

১৯৭১ খ্রি. স্বাধীনতাযুদ্ধে ঢাকা কলেজের ৮ জন ছাত্র শহীদ হন। তার আগে ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল প্রথম সারিতে। ঢাকা কলেজে এখন পর্যন্ত ৭৩ জন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ডা. টি ওয়াইজ, ডব্লিউ ব্রেনাড, ডব্লিউ বুথ, এফ সি টার্নার, এ জে আর্চিবল্ড এবং ড. পি কে রায়, হরিনাথ দে, বহু ভাষাবিদ, অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, মৌলভী ফরিদ আহমদ, ইংরেজি বিভাগ, প্রফেসর মোশতাক আহমদ, ইংরেজি বিভাগ, প্রফেসর নেহাল আহমেদ অধ্যক্ষ, মো. নুরুল হক মিয়া অধ্যক্ষ ও রসায়ন-বিভাগীয় প্রধান, শহীদুল জহির, বাঙালি গল্পকার ও ঔপন্যাসিক, সোহেল আহসান গালিব বাংলা বিভাগ, কবি-প্রাবন্ধিক ও সমালোচক অন্যতম। এ ছাড়া শওকত ওসমান, আশরাফ সিদ্দিকী, সৈয়দ আবু রুশদ মতিনউদ্দিন, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিরাও এ কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বা ছাত্রদের তালিকায় আছেন চট্টগ্রামের খান বাহাদুর বজলুর রহিম, কলকাতার অতিরিক্ত প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদুর রহমান, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নিবন্ধক নাজিরউদ্দীন আহমদ, লেখক হুমায়ূন আহমেদসহ বহু নামী রাজনৈতিক, খেলোয়াড় ও সরকারি আমলা। ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন ১৬ জন। ওই সময়ে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সচিব ছিলেন ২১ জন। বাংলাদেশে এমন নজির আর নাই। সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি জিল্লুর রহমানের বাবা মেহের আলী মিয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাংলাদেশের দুইজন রাষ্ট্রপ্রতি ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রতি ছিলেন এই কলেজের ছাত্র। ঢাকা কলেজের একটি হলের নাম ইন্টারন্যাশনাল হল। এখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী থাকতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। এছাড়া বর্তমান মন্ত্রী পরিষদের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আরেফিন সিদ্দিক, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক ড. জাফর ইকবাল, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পিতা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এমএ ওয়াদুদসহ আরও অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তি এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন যারা এই কলেজের ছাত্র হয়েছিলেন তারা হলেন, কবি শামসুর রাহমান, মহাদেব সাহা, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, আবুল হাসান, সাংবাদিক গোলাম মুরসিদ, জাতিয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, প্রথম বাঙালি আইসিএস কেজি গুপ্ত, লোক সাহিত্যিক দীনেশ চন্দ্র সেন, পগোজ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আর্মেনীয় নিকোলাস পগোজ, দারারু গ্রান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ, ডেইলি স্টার এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও মাহবুব আনামের পিতা আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর গ্রন্হের লেখক আবুল মনসুর আহমেদ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, লেখিকা ও অধ্যাপিকা সনজীদা খাতুন এর স্বামী ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহেদুল হক, আবুল কালাম সামসুদ্দিন, শফিক রেহমান যায়যায়দিন সম্পাদক, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষক ও বিএনপির সাধারন সম্পাদক, শওকত ওসমান, আলাউদ্দিন আল আযাদ, জাতিয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরি, ব্রাক প্রতিষ্ঠাতা নাইট স্যার ফজলে হোসেন আবেদ, মোহাম্মদ রফিক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষপ্রসন্ন কুমার রায়, অর্থনীতিবিদ সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলি খাঁন, রাজনীতিবিদ রাশেদ খাঁন মেনন, আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খাঁন আলমগীর, মন্ত্রি ফারুখ খানঁ, কাজি জাফরুল্লাহ, তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরি বীর বিক্রম, মেজর জেনারেল খালেদ মোশার্রফ বীরউত্তম. কর্ণেল সাফায়াত জামিল বীর বিক্রম, প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, ১৩তম রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরি, জামিরুর রেজা চৌধুরি, মজিবুর রহমান চৌধুরি নিক্সন চৌধুরি, জাহানারা ইমামের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিইমাম রুমি, গোলাম মওলা রনি এমপি, লেখক প্রাবন্ধিক মহিউদ্দিন আহমেদ, দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য/, সরদার ফজলুল করিম, টিভি অভিনেতা, মোশারফ করিম, সিনেমা অভিনেতা ফেরদৌস, এস.এম.আসলাম তালুকদার মান্না- সিনেমা অভিনেতা, খালেদ খাঁন, মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মুহম্মদ নুরুল হুদা- কবি, প্রাবন্ধিক, মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী – সাবেক এমপিএ, এমসিএ, রাষ্ট্রদূত, মতিউর রহমান, সম্পাদক, দৈনিক প্রথম আলো, এম মামুন হোসেন সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক ড.আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তানজির তুহিন গায়ক, শফিক তুহিন গায়ক, সজল নুর অভিনেতা, আফরান নিশো অভিনেতা, কালাম আজাদ – কবি, সাংবাদিক ও গবেষক এবং কামরুল ইসলাম (চিকিৎসক) – স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী চিকিৎসক প্রমুখ।
কেমব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং হিন্দু কলেজের শিক্ষক জে. আয়ারল্যান্ডকে ঢাকা কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করা হয়। ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে অধ্যক্ষ ছিলেন গণিতশাস্ত্রের পণ্ডিত অধ্যাপক ব্রেনান্ডকে কিন্তু ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হরে ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবার, এমনকি ঢাকা কলেজের ইউরোপীয় শিক্ষকরাও বিব্রত হয়ে পড়েন। তদুপরি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রথম বছরেই ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা কলেজের ৪ জন ছাত্র প্রথমবারের মতো স্নাতক বা বি.এ. পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে কোলকাতা পাড়ি দেয়। কারণ সেমসয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিলো একমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্র বা সেন্টার। এ সময় কলেজের ছাত্রসংখ্যা বেড়ে ১৮৫৯-৬০ খ্রিষ্টাব্দে হয় ৫১জন যার ২জন খ্রিস্টান, ১জন মুসলমান এবং ৪৮জন ছিলো হিন্দু। ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান ক্লাশ খোলা হয়, কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় ১৮৪১ সালে ঢাকা কলেজের একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সজ্জিত পাঠকক্ষ সহ ৫০,০০০ ( পঞ্চাশ হাজার) বই রয়েছে। 

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজের জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্মিত প্রথম ছাত্রাবাসটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল। ১৯৫৫ সালে ঢাকা কলেজ বর্তমান জায়গায় চলে আসে। ঢাকা কলেজ এ বর্তমানে রয়েছে ৮টি ছাত্রাবাস। ছাত্রাবাস গুলো হলোঃ-১. উত্তর ছাত্রাবাস ২. দক্ষিণ ছাত্রাবাস ৩. পশ্চিম ছাত্রাবাস ৪. আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস ৫. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হল ৬. শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস ৭. দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস ও ৮. শেখ কামাল ছাত্রাবাস। ২৪ একর জমির ওপর ছিল ঢাকা কলেজ। তবে এরশাদ সরকারের সময় ৬ একর জমি ছেড়ে দিতে হয়।
রেজাউল করিম মুকুল, ২০ এপ্রিল, ২০২২খ্রি