২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন কানাডিয়ান খ্যাতনামা লেখক অ্যান কার্সন।
ঐতিহ্যবাহী ধ্রুপদী ধারার সাথে সাবলীল ও উদ্ভাবনী সংলাপে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ সৃষ্টির স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও অনুবাদের পাশাপাশি আজীবন কাব্যচর্চা করে গেছেন।
কার্সনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মই গড়ে উঠেছে শব্দের প্রতি ভাষাবিদের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থের প্রতি কবির তীব্র আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধনে। তিনি নিজেও তার প্রতিটি সৃষ্টির মূল প্রেরণা হিসেবে শব্দের বুৎপত্তিকে চিহ্নিত করেছেন।
ধ্রুপদী গ্রিক ভাষা থেকে তার অনুবাদগুলোকে স্বাধীন সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সাফোর খণ্ডিতাংশের অনুবাদ ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), সোফোক্লিসের ট্র্যাজেডি ‘ইলেক্ট্রা’ (২০০১) ও ‘অ্যান্টিগোনে’ (২০১৫) এবং ইউরিপিদিসের ‘বাখাই’ (২০১৫)।
১৯৯০-এর দশকে কার্সন ধারাবাহিক কিছু সাহিত্যকর্ম উপহার দেন। এর মধ্যে ‘গ্লাস, আইরনি, অ্যান্ড গড’ (১৯৯৫) গ্রন্থে সংকলিত ‘দ্য গ্লাস এসে’ অন্যতম। একই দশকে প্রকাশিত হয় কার্সনের বহুল প্রশংসিত ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’ (১৯৯৮)। এটি ধ্রুপদী সাহিত্য ঐতিহ্যকে সমকালের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে তার অসাধারণ দক্ষতার অনন্য নিদর্শন।
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের গ্রিক কবি স্তেসিখোরোসের ডানাযুক্ত লাল দানব ‘গেরিয়ন’-কে নিয়ে লেখা খণ্ডিতাংশকে ভিত্তি করে সমসাময়িক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক ভাষার সাবলীল ব্যবহারে এটি রচিত।
তার ২০২৪ সালের রচনা ‘রং নরমা’ বিভিন্ন গ্রন্থের এক বৈচিত্র্যময় সংকলন, যেখানে একটি শক্তিশালী পারফর্মেটিভ দিক রয়েছে। নৃত্যশিল্পী এবং অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সাথে তার যৌথ কাজগুলো সাহিত্যিক নিয়মকানুন ও প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে তার অবাধ স্বাধীনতাকেই প্রকাশ করে। মূলত এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

