মেয়েদের বাড়ি
কামরুন জাহান ঝিনু
মুখে এক খিলি পান, চোখে প্রশান্তির ছায়া। জানালার পাশে বসে সালেহা বেগম তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে। শরতের নীল আকাশে একটিও মেঘ নেই। অনেকটা যেন তার মনের মতোই—স্বচ্ছ, মুক্ত।
সালেহা বেগম সারা জীবন অন্যের ঘরে কাটিয়েছেন—বাবার, স্বামীর, তারপর ছেলের। সব ঘরেই তিনি ছিলেন অতিথির মতো। নিজের বলতে কিছুই ছিল না, শুধু দায়িত্ব আর কর্তব্যের পাহাড়।
কিন্তু এখন?
এখন তিনি জানেন, এই দোতলা বাড়িটার প্রতিটা ইট তার স্বপ্নের, প্রতিটা কোণ তার সঞ্চয়ের। নিচে রান্নাঘর আর ডাইনিং রুমে ভরবে তার অতিথিদের হাসি, উপরের লাইব্রেরিতে সাজবে তার সংগ্রহ করা বই। বারান্দা দিয়ে বয়ে যাবে বিকেলের বাতাস, আর রাতে সেই এক চিলতে আকাশ দেখবেন নিজের বেডরুম থেকে।
বাড়ির নাম দিয়েছেন—”মেয়েদের বাড়ি”।
কেউ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মেয়েদেরও ঠিকানা থাকে। শুধু অন্যের দেয়া নয়, নিজেরও।
রোহান খবরটা শোনার পর ফোনে চুপ করে ছিল কিছুক্ষণ। তারপর বলেছিল, তুমি পেরেছো মা, আমি গর্বিত।
সালেহা বেগম শুধু হেসেছিলেন।
আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললেন,
“এখানেই শেষ নয়, এখান থেকেই শুরু।”

