আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান প্রতিবাদী কবি, গীতিকার ও সংস্কৃতি কর্মী রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশাল রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ডা. শেখ ওয়ালীউল্লাহ এবং মা শিরিয়া বেগম। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর পৈতৃক বা স্থায়ী নিবাস বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাহেবের মেঠ গ্রামে। তাঁর বাবা সরকারি চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে কর্মস্থল হিসেবে বিভিন্ন স্থানে থাকতে হলেও রুদ্রর শেকড় ও শৈশবের উল্লেখযোগ্য একটি সময় কেটেছে বাগেরহাটের মোংলার সাহেবের মেঠ গ্রাম এবং পাশেই তাঁর নানাবাড়ি মিঠেখালিতে। নানাবাড়িতেই তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় এবং নানাবাড়িতে নিয়মিত আসা ‘বেগম’ ও কলকাতার ‘শিশুভারতী’ পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর শিশুমনে সাহিত্যপ্রীতি ও লেখার আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি ঢাকার ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে বিএ (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী রাজনীতি, ছাত্র আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কিশোর বয়সেই তিনি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি, যা তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। পরবর্তীকালে তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কবিতায় দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, গণআন্দোলন এবং সমাজজীবনের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তীব্র দ্রোহ ও প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘উপদ্রুত উপকূল’, ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’, ‘মানুষের মানচিত্র’ ইত্যাদি এবং কালজয়ী গান ও কবিতা ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ ও ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ তাঁকে অমর করে রেখেছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮১ সালে লেখক ও চিকিৎসক তসলিমা নাসরিনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৮৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই প্রগতিশীল কবি ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে বাগেরহাট জেলার মোংলার মিঠেখালিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়
Add A Comment

