বেদনার কষ্টিপাথর
এম এ ওয়াজেদ
রাতের খাবার পরে খাবে বলে
ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে ছেলেটি
রাত গভীর হয়
বিধবা মা ছেলের প্রতীক্ষায় ঘুমহীন
বাইরে বাতাসের প্রবল ঝাপটা
কিছুক্ষণ পরে মুষলধারে বৃষ্টি নেমে আসে
বাড়ির ভেতরে ডালিম গাছটি
মূলসহ ভেঙ্গে পড়ে
ছেলেটির মা জানতো
গাছের সাথে সাতটি ডালিম মাটিতে পড়ে আছে
আর কয়েকটা দিন পার হলেই
দুটি রেখে পাঁচটি বিক্রি করা যেতো
মাটির দেয়াল ওপরে খড়ের ছাউনি
মাদুর বিছিয়ে শুয়ে আছে বিধবা
পুরনো খড়ের ছাউনি বেয়ে নেমে আসা বৃষ্টিতে
বিধবার সাদা শাড়ি ভিজে যায়
সকাল হলে দেখতে পায়
ঝড়ে পড়া ডালিমগুলো কে যেনো নিয়ে গেছে
সকাল ঠিক আটটার দিকে
ভিখারিনী সমিজা লাঠিতে ভর দিয়ে
বিধবাকে ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানায়
থানায় গিয়ে ছেলের গলাকাটা লাশ দেখে
পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকে
পৃথিবীর অন্ধকারগুলো ঘিরে ধরে বিধবাকে
একাত্তরের সেই উত্তাল যুদ্ধের সময়
তার স্বামী হারিয়ে গেছে চিরতরে
ভিটে ছাড়া বেদখল হয়েছে বাকি সবগুলো
ছেলের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের কয়েকদিন পর
মারা যায় বিধবা
তার বসতবাড়ি দখল করে পাড়ার আবু হোসেন চৌধুরী
বেদনার কষ্টিপাথরে জমে থাকে বিচারহীন গঠনতন্ত্র

