প্রতিথযশা সাংবাদিকের বিদায়—ভোলার আকাশে এক শূন্যতা
মোঃ হাবিবুর রহমান : ছয় দশকের আলোকবর্তিকা নিভে গেল।
—- মোঃ মহিউদ্দিন
—এক স্মরণফিচার
ভোলার সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে যাঁর নাম চিরভাস্বর হয়ে আছে, সেই প্রতীথযশা ব্যক্তিত্ব—রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দৈনিক বাংলার কণ্ঠ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান—আজ আমাদের মাঝে আর নেই।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
২৪ নভেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার—তারিখটি ভোলার ইতিহাসে শোকের কালদিন হয়ে থাকবে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পরপারের যাত্রী হয়েছেন, রেখে গেছেন এক বিশাল শূন্যতা, অসংখ্য স্মৃতি, প্রজন্মকে পথ দেখানো আলোকচিহ্ন আর অনুকরণীয় এক জীবনদর্শন।
এক জীবন, যার প্রতিটি অধ্যায় সংগ্রাম, সততা ও সাহসের প্রতিমূর্তি
ষাটের দশকে যখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার স্বপ্নে জেগে উঠছিল, তখনই সাংবাদিকতা ও জনসেবাকে হাতিয়ার করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুরু করেন হাবিবুর রহমান।
তিনি শুধু সংবাদ লেখেননি—একটি যুগের কথা লিখেছেন, মানুষের ব্যথা লিখেছেন, নির্যাতন–বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে কলম ধরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর দায়িত্ব, ঝুঁকি ও অবদান ভোলার মানুষ কখনো ভুলবে না। তিনি ছিলেন সেইসব আলোকিত মানুষদের একজন, যাঁদের ত্যাগ ও সাহসিকতা আমাদের বর্তমান স্বাধীনতা ও মর্যাদার ভিত্তি শক্ত করেছে।
দৈনিক বাংলার কণ্ঠ—তার জীবনের স্বপ্ন ও অর্ঘ্য
ভোলার মানুষের কথা ভোলার মানুষকেই বলতে হবে—এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক বাংলার কণ্ঠ।
তিনি চেয়েছিলেন একটি পত্রিকা, যা হবে মানুষের মুখপত্র, সত্যের মঞ্চ, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যম।
বিগত কয়েক দশক ধরে এই পত্রিকা ভোলার সাংবাদিকতা ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। তার প্রতিটি সংখ্যায়, প্রতিটি লাইনে, প্রতিটি সম্পাদকীয়তে যেন প্রতিফলিত হতো সম্পাদক হাবিবুর রহমানের ন্যায়নিষ্ঠ চোখ, নিখুঁত বিশ্লেষণ ও মানবিক হৃদয়।
প্রেসক্লাবের অভিভাবক, সাংবাদিক সমাজের পথপ্রদর্শক—
ভোলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্বই পালন করেননি—গড়ে তুলেছেন ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও সততার এক অনন্য উদাহরণ।
তরুণ সাংবাদিকদের জন্য তিনি ছিলেন এক চলমান শিক্ষাঙ্গন—
কীভাবে খবর সংগ্রহ করতে হয়,
কীভাবে যাচাই করতে হয়,
কীভাবে সত্যকে রক্ষা করতে হয়,
আর কীভাবে মানুষকে সম্মান দিতে হয়—
এসব তাঁর কাছ থেকে শিখেছেন অসংখ্য গুণী সাংবাদিক।
মানুষ হাবিব—সরল, বিনয়ী, মানবিক
পেশাগত পরিচয়ের বাইরে তিনি ছিলেন একজন অপরিসীম মানবিক, আন্তরিক ও নম্র মানুষ।
মানুষের কষ্ট দেখলে তিনি বিচলিত হতেন, বিপদে পাশে দাঁড়াতেন, কারো জন্য কোনো দরজা বন্ধ রাখতেন না।
সত্যিই—তিনি ছিলেন ভোলার গর্ব, ভোলার সম্পদ, ভোলার মুখপাত্র।পরিবারের করুণ আবেদন—“ভুল যদি করে থাকেন, ক্ষমা করবেন”
মানুষ হিসেবে হয়তো তিনি কোথাও ভুল করেছেন, কোথাও কষ্ট দিয়ে ফেলেছেন।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত প্রার্থনা—
জানা–অজানা, ইচ্ছায়–অনিচ্ছায় করা সকল ভুলত্রুটিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
তার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
শেষ বিদায়—ভোলার মানুষের চোখে অশ্রু
মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে— মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
বেলা ১১:০০ টা
ভোলা সরকারি স্কুল ময়দান
সকল শ্রেণি–পেশার মানুষকে জানাজায় উপস্থিত হয়ে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করার অনুরোধ করা হলো ।
একজন মহান মানুষকে বিদায় জানাতে ভোলা প্রস্তুত; কিন্তু এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।
শেষ কথা—তিনি চলে গেলেন, কিন্তু রয়ে গেলেন হাজারো হৃদয়ে
মোঃ হাবিবুর রহমান ছিলেন এক জীবন্ত ইতিহাস।
তার কর্ম, সততা, আদর্শ ও অসীম মানবিকতা থাকবে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে।
তিনি চলে গেছেন—
কিন্তু ভোলার আকাশে তার নাম জ্বলবে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে।
মানুষ বাঁচে না চিরকাল—কিন্তু তার কাজ, আদর্শ ও স্মৃতি বেঁচে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমীন।
৮৯ বার পড়া হয়েছে

