২৩৬ বার পড়া হয়েছে
মাহবুবা ফারুক, শিশু-কিশোরদের জন্য গল্পের বই:।সততার গল্প।
যখন আবেগকে ভালো করে বুঝিও না ,ভিতরে শুধু অনুরণন হয়, প্রকাশের কোন একটা মাধ্যম খোঁজে ভিতরের আমিটা, কী কেন কীভাবে কিছুই জানিনা। কোনো বিষয় নিয়ে যখন কিছু বলতে ইচ্ছে করে, কোনো ভালো লাগা বা কষ্টের কিছু- অথচ তা ঠিক সে ভাবে বলা যায় না- তখন লিখে রাখতাম । খুব ছোটবেলার কথা বলছি কষ্টেরা আমাকে অন্তর্মুখী করে তুলত । কিছুটা একাকীত্ব আর অসহায়ত্ব বোধ করতাম। যেমন বন্ধুর সাথে খেলতে গিয়ে ঝগড়া? বই পড়তে নিয়ে আর ফেরত দেয়নি? সামনে পরীক্ষা। খুব মন খারাপ হতো। সেসব কাকে বলবো? মা শুনলে আমার দোষ আগে জানতে চাইবেন । ভাই বোন ? মাকে অথবা বাবাকে বলে দিবে । কাজেই কাউকে না বলে বিছানায় শুয়ে ছটফট ক
রতাম, ঘুম হত না রাতে। কাগজের কাছে সেসব জমা রেখে একটু ভারমুক্ত হতাম। এভাবে কোন কষ্ট বা ভালো কোনো আনন্দের বিষয় যা আমাকে স্পর্শ করত তা লিখে রাখতাম । বানিয়ে গল্প বলতে ভালো লাগতো তাও লিখে রাখতাম। কোনো স্মরণীয় বাণী কোথাও পেলেও লিখে রাখতাম। একে-ওকে তা উপহার হিসাবে দিতাম। বন্ধুরা কেউ কেউ আমাকে দিয়ে চিঠি লিখাতো। প্রথম লেখালেখির অভ্যাস এভাবেই শুরু। পড়ার টেবিলেই থাকত সে সব লেখার খাতা । এক খাতা শেষ হলে আবার অন্য খাতায় শুরু হতো। সিনেমার নাম ,গান ,কবিতা, ধাঁধা, নতুন কোন রান্নার রেসিপি, সাংস্কৃতিক খবর, পত্রিকা থেকে কেটে রাখা কোনো ভালো লাগা লেখা, কী ছিল না! সবকিছু লিখে রাখতাম। ছবিও রাখতাম। মুখে মুখে ছড়া বানানো খেলতাম বন্ধুদের সাথে । খেলা থেকে ফিরে এসে লিখে রাখতাম । লিখতাম শুধু স্থায়ী করার জন্যেও। যেন ভুলে না যাই। যেন এসব হারিয়ে না যায় । একদিন বৃষ্টির আকাশ দেখে কয়েক লাইনের ছড়া বানিয়ে ফেললাম। আমার সে কি আনন্দ ! কিন্তু সেটা কোন কাগজে লিখেছিলাম তা আর খুঁজে পাইনি। শুধু দুটো লাইন আজও সাথে আছে। মেঘগুলো উড়ছে কত দেশ ঘুরছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সবকিছুই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পুরনো বই খাতা আসবাবপত্র কোন কিছুই বাড়িতে ফিরে এসে পাইনি । যুদ্ধের সময় আমরা গ্রামে চলে গিয়েছিলাম শুধু পরার কাপড় সাথে নিয়ে। তখন আমরা ভাই-বোন খুব ছোট ছোট সবাই। অনেক কথাই আজ মনে নেই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ মনে খুব দাগ কেটেছিল। ছোট একটা নৌকায় করে আম্মা, আব্বা আর আমরা ভাই-বোন যাচ্ছি এক পড়ন্ত বিকেলে মনে পড়ে। এসব ভাবলে আমি স্মৃতিকাতর হই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরে বাড়ির দুরবস্থা দেখে ছোট্ট মনটাতে হাহাকার হচ্ছিল। পুরোনো কিছুই বাড়িতে নেই। চারপাশ খোলা, ফাঁকা। চেনা মানুষদের অনেকে নেই। বাড়ি ঘর ভাঙ্গা ,কোন জিনিস পত্র নেই। বাবা মায়ের হাতের গাছপালা সব কাটা । কোথাও আগুনে পোড়া। কেমন ভুতুড়ে পরিবেশ। সব হারিয়ে খুব মন খারাপ হলো। আবার আনন্দও হলো বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছি বলে। কত চেনা মানুষ এই যুদ্ধে মরে গেছে! কিছুদিনের মধ্যেই আস্তে আস্তে অনেকে ফিরে এলো। তখনো অনেকেই ফিরে আসে নি। একটু একটু করে আবার নতুন করে জীবন শুরু হলো ।আবার বই খাতা, আবার লেখার জন্য কাগজ কলম। আবার বন্ধুদের সাথে খেলা । আবার স্কুলে পড়তে যাওয়া। ক্লাসের বাংলা ইংরেজি রচনাগুলো আব্বা লিখে দিতেন সুন্দর ভাষায় । সেসব মুখস্থ করে লিখে নম্বর বেশি পেতাম। তখন থেকে নিজেও চেষ্টা করি ভাল কিছু লিখতে। তখন আমি পদ্ধতিটা শিখে নিয়েছিলাম আব্বার কাছে কি করে ভালো লিখতে হয়। কি করে হাতের লেখা সুন্দর হবে, ভাষা সুন্দর হবে। খুব ছোটবেলায় দেখেছি আমার খালাতো বোন মুনিরা আপা নেত্রকোনার একটা পত্রিকায় গল্প লিখে পাঠাতো। তার গল্প ছাপা হতো । এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ও অদ্ভূত একটা ভালোলাগার বিষয় ছিল। আমার প্রিয় খালাতো বোন আনোয়ারা- আমার আনু আপা খুব গল্পের বই পড়তো । বড় বড় কবিতা মুখস্থ করত । যেমন ‘কবর’ কবিতাটা ক্লাস টুতেই মুখস্থ করে ফেলেছিল। সুন্দর আবৃত্তি করে শোনাতো ।আমাদের পরিবারের সবাই একসঙ্গে যখন বসতাম তখন । প্রায়ই খেলতে না গিয়ে অথবা খেলা শেষ করে গোল হয়ে তাকে ঘেরাও করে বসতাম। তার গল্প শুনতাম নতুন কোন গল্পের বই পড়েছে সে। কবিতা আবৃত্তি শুনতাম। আমার মনে হতো আমিও কবিতা লিখবো । এভাবে আবৃত্তি করব। ক্লাসের বন্ধুরা অবাক হতো যদি দু-এক লাইন ছড়া শোনাতাম । তখন আরো লিখতে ইচ্ছে করতো। তাই পড়া ফাঁকি দিয়ে কখনোবা খেলা বাদ দিয়ে কাগজ কলম নিয়ে বসে যেতাম । লেখা না হলে ছবি আঁকতাম। টেবিলের সামনে সেই ছবি আটকে রাখতাম । স্কুলের ড্রয়িং স্যারের
হাতের বাঁশ-বেত, কাগজ, কাঠ, মোম , সাবানের বিভিন্ন কাজ দেখে ভাবতাম এসবের মধ্যে কোথায় যেন ছন্দ, ছড়া-কবিতা লুকিয়ে আছে। সেখানে কারো বানানো একটা ছোট কাঠের চেয়ার দেখে খুব ভাল লেগেছিল । সেই চেয়ারটায় বড়রা বসতে পারবে না । তাই আমার মনে হলো আমার পুতুলটা যদি ওখানে বসাতে পারতাম ! কিন্তু সেই চেয়ার তো আমি পাব না । তাই বাসায় ফিরে একটা ছড়া লিখলাম — ও কাঠের চেয়ার এত ছোট তুমি তোমার পিঠে বসতে পারে আমার পুতুল ছাড়া কে আর ? বড় ক্লাসের আপা দিদিদের পরদিন এই লেখা দেখালাম।ওরা বলল, ‘এত ছোট তুমি’ অংশটুকু বাদ দাও। কেউ বললো শেষ লাইন দাও, ‘আমার পুতুল ঝুমঝুমি।’ শেষ পর্যন্ত কী করেছিলাম মনে নেই। এগুলো কৈশোর কালের কথা । ক্লাস সিক্স সেভেন হবে। শুধু দেখার বিস্ময় । লিখে শুধু বন্ধুদের দেখানো। সেসব লেখা পড়ার টেবিল গুছাতে গিয়ে আম্মা কখনো দেখে ফেলতেন। আম্মার কথায় কখনো বোঝা যেত। খুব মধুর , বিচিত্র, দুরন্ত শৈশব কৈশোর কাটিয়েছি আমি। ঘুড়ি ওড়ানো, ভেলায় চড়া, গাছে চড়া, পাখির ডিম পেড়ে নিয়ে আসা , বাগান করা, যখন-তখন পুকুরে সাঁতার কাটা, ভাই-বোন মিলে রান্না করা, পুতুল বিয়ে দেয়া, রেল লাইন ধরে দূরে কোথাও হেঁটে চলে যাওয়া, পুকুরে বরশি দিয়ে মাছ ধরা, সাপুড়ের সাপ ধরা ও সাপের খেলা দেখা, বোষ্টমীর গান শোনা,কি ছিল না সেই সময়টায়! এক স্থানীয় ছোট কাগজের জন্য আব্বার কাছে একবার কেউ এসেছিল আমার লেখা চাইতে । সেটি হবে সুকান্ত সংখ্যা। তখন আব্বা আমাকে বললেন কবিতা লিখতে। তেমন কিছু জানি না সুকান্ত সম্পর্কে তবুও বই ঘেঁটে তারপর নিজের যা ভালো মনে হয় লিখলাম। লিখে আব্বাকে দেখালাম । কি লিখেছিলাম তার কিছুই আজ মনে নেই । আব্বা পড়লেন মন দিয়



লিখেছিলাম তার কিছুই আজ মনে নেই । আব্বা পড়লেন মন দিয়ে । পড়ে তা বাতিল করে দিলেন না। কিছু মতামত দিলেন। সেই আমি জানলাম যে আব্বা আমার লেখালেখির কথা জানেন । কিছুটা প্রেরণাও পেলাম বটে। আব্বা সুন্দর সুন্দর কলম এনে দিতেন আমাদের ভাইবোনদের। প্রচুর কাগজ, কলম, পেন্সিল কিনে আনতেন। বিভিন্ন রকম বই পড়তে দিতেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সবাইকে নিয়ে আলোচনা করতেন, প্রশ্ন করতেন। আম্মা রাখতেন ‘বেগম’ পত্রিকা। এছাড়াও দু-তিনটা দৈনিক পত্রিকা বাসায় আসতো । আমার আম্মার ছিল গল্পের বই পড়ার অভ্যাস। স্কুল লাইব্রেরি থেকে আমি বই আনতাম । এভাবে পড়ে পড়ে নিজের অজান্তে লেখার ইচ্ছে অঙ্কুরিত হলো কখন জানিনা। মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়েও বানিয়ে গল্প বলতাম। পত্রিকায় যে গল্পটা ভালো লাগতো সেটা বন্ধুদের আমি নিজে লিখেছি বলে দেখাতাম আর ওদের প্রশংসা নিতাম। মনে মনে ভাবতাম কবে এরকম সুন্দর গল্প কবিতা সত্যি লিখতে পারব। উঠোনে জ্যোৎস্না রাতে আমাদের পারিবারিক আসর বসতো প্রায়ই। সেখানে যে যার মত গান কবিতা শোনাতো,অভিনয় করতো ,কৌতুক বলতো, তখন বানিয়ে কত যে এলেবেলে ছড়া বলেছি ছন্দ ছাড়া যেমন খুশি। আম্মা তবুও প্রশংসা করতেন। আম্মার গানের গলা ছিল খুব ভালো। আম্মা খালাম্মা গান করতেন নজরুল রবীন্দ্র আধুনিক যা খুশি। আমি ভাবতাম আহা আমি যদি এমন কোনো গান লিখতে পারতাম যা আমার আম্মা আমার খালাম্মা এভাবে গাইবেন। আমার জন্ম নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টায়। বাবা মমতাজ উদ্দীন আহমাদ ছিলেন বারহাট্টার ঐতিহ্যবাহী রত্নগর্ভা একমাত্র বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক । আমি ভাইবোনদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এসএসসির পর কংসের তীর ছেড়ে শহরে যেতে হলো কলেজে পড়ার জন্য। কলেজ জীবনে এসে স্বরচিত কবিতা লেখার জন্য পুরস্কার পেয়েছি । “বেগম” পত্রিকায় কবিতা পাঠিয়ে দেখি তা ছাপা হয়ে গেছে। আমার আনন্দ আর ধরে না । ভাবনার মনিমুক্তারা সব লাফিয়ে ওঠে খাতায় আসার আকুলতায়। এভাবে লিখে লিখে খাতার পর খাতা ভরে রাখি। মাঝে মাঝে বের করে দেখি। বিভিন্ন নামে পত্রিকায় পাঠাই। দুয়েকটা ছাপা হয়। মনে মনে সেই পত্রিকাগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতার সীমা থাকে না। একবার ঢাকায় এসে সুযোগ হল বেগম পত্রিকার অফিসে যাবার ও শ্রদ্ধেয় গুণীজন মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের সাথে দেখা করার। ‘বেগম’ অফিসে লয়াল স্ট্রিটে তাঁর সাথে এভাবে আরও দু-তিন বার দেখা হয়েছে । তখন তাঁর আন্তরিক ব্যবহারে আমার লেখার প্রতি আরও আগ্রহ বেড়ে গেল। তিনি আমাকে গল্প লিখতেও উৎসাহ দিয়েছিলেন। সেই সুবাদে দু একটা গল্প লিখে ‘বেগম’ এ পাঠিয়েছি তা ছাপা হয়েছে। তারপর অনেক লিখেছি ‘বেগম’ পত্রিকায়। অনেকবার গিয়েছি শ্রদ্ধেয় প্রিয় সম্পাদক নূরজাহান আপার কাছেও। সেসময় ক্যামেরা ছিল না বলে আমি ছবি তুলতে পারিনি। আমার এই আফসোস সারাজীবন থাকবে। এসব অমূল্য ভালোবাসা , মুগ্ধতা নিশ্চয়ই আমাকে লেখার জন্য টেনেছে। তবে মনে রাখতে হবে এই সমাজে আমি একটা মেয়ে। অনেক বাধা ডিঙিয়ে আমার এগোতে হয়। পথটা এত সহজ থাকেনা। পথ তৈরি করতে হয় রক্তাক্ত সময় ও সাহস ব্যয় করে। খুব অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় পড়াশোনা, সংসার সবদিক সামলে লেখালেখির গতি একটু কমে গিয়েছিল। তবে থেমে যেতে দিইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করার পর পেশা হিসেবে নিলাম শিক্ষকতাকে । আবার লেখায় মন দিলাম । বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতে শুরু করেছি । কিন্তু বই করার কথা ভাবিনি । তাই প্রথম বইটা আসতে বেশ দেরি হয়েছে । ততদিনে আমি মা হয়েছি । বাচ্চার অনেক কাজ দেখে মনে হয় এই ঘটনাগুলো গল্পে থাক। তার অনেক কাজ অনেক কথা তার বেড়ে ওঠা দেখা আমার প্রেরণা। ২০১০ সালে প্রথম প্রকাশ হয় ছড়ার বই “প্রজাপতি” । রঙিন ছবিসহ ছোট ছোট ছড়া একেবারে ছোটদের জন্য । তারপর ধীরে ধীরে ছোটদের জন্য বড়দের জন্য ১২ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। লেখার বিষয়টা হলো নেশার । ভালোবাসার । যা বুকের গভীরে অতল ভালোবাসায় লালন করতে হয়। ছোটবেলার সব লেখাই হারিয়ে গেছে। লিখে রেখেছি কিন্তু তা যে সংরক্ষণ করতে হবে এটাই বুঝতাম না। শুধু মনে আছে একটা দুটো ছড়া আর একটা গল্প । গল্পটা আমি নতুন করে আবার লিখব। বৃষ্টির দিনে খেলতে যেতে পারতাম না মাঠ ভেজা থাকতো বলে । তখন ঘরে বসে আব্বার দেয়া রচনা অথবা অন্য কিছু লিখতাম । কখনো গল্পের বই পড়তাম। দূরের আত্মীয় বা বন্ধুদের চিঠি লিখতাম । কখনো ভাইবোন মিলে রেডিও মাঝখানে নিয়ে গোল হয়ে সবাই গান শুনতাম, নাটক শুনতাম। রেডিওর কোনো কোনো অনুষ্ঠানে অনুরোধের চিঠি লিখতাম। এভাবে লেখার সাহস তৈরি হয়ে গেছে হয়তো। আজও ছোটদের জন্য গল্প লিখতে ভাল লাগে। সেগুলো আসলে গল্প হয়ে ওঠে কিনা জানিনা– ভালো লাগে তাই লিখি। কি লিখি এতক্ষণে হয়তো বলে ফেলেছি । আসলে যা দেখি, ভাবি সেসব জীবন কথাই লিখি। ছড়া ,কবিতা, গল্প, গান লিখি। ছোটদের জন্যে লিখি। বড়দের জন্যেও লিখি । বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকবি আমি । টিভিতে প্রচার হয়েছে আমার লেখা গান। নাটক । এই সবকিছুই শখের কাজ । ছোটদের জন্য গল্প লিখলে বেশি আনন্দ পাই। কেন ? মনে হয় যেন আমার শৈশবকে সে গল্পের মধ্যে খুঁজে বেড়াই। ছোটদের আনন্দ-বেদনা চাওয়া-পাওয়া সব গল্পের মধ্যে রেখে দেই। হয়তো কিছু ভালো কথা ছোটদের জন্য বলা দরকার । এই দায়বদ্ধতা থেকেও গল্প লিখি। লিখতে চাই সারাজীবন । কবে যে কাঙ্ক্ষিত লেখাটি লিখতে পারবো জানি না । মনের মত একটা গল্প, ছড়া, কবিতা লিখার এক অতৃপ্তি আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সে জন্য আজও লিখতে বসার জন্য একটু সময় করে বসি। উসখুস করি । হাঁটতে চলতে লেখার উপকরণ খুঁজি। ভাবনার মধ্যে নিজেকে গহিন একাকীত্বে ডুবিয়ে রাখি সবার সাথে থেকেও। এই সাধনা আমার একার। একান্ত ভালোবাসার। প্রেরণা কে? কি ? যদি কেউ জানতে চায় তাহলে বলি আমার প্রকৃতি-পরিবেশ আমার প্রেরণা । আমার কংস নদী ,আমার গারো পাহাড়, আমার দৃষ্টি না আটকানো খোলা সবুজ মাঠ, রেললাইন, মানুষ, মাঝরাতে ডেকে ওঠা নিঃসঙ্গ পাখি,এরা সবাই আমার প্রেরণা । প্রেরণা মা-বাবা ভাই-বোন পরিবারের সবাই । কখনো তা স্থির নয়। প্রেরণা ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায় । আনন্দ বেদনা যেকোনো আবেগই প্রেরণা হতে পারে। কিছু পুরস্কার। কিছু পুরস্কার প্রাপ্তিও এক ধরনের প্রেরণা । সামান্য হলেও তো ভাগ্যে জুটেছে কিছু। আর বলবো আমার সুপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রী আমার প্রেরণার অনেক বড় একটা জায়গা। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা? আজীবন এই লেখার আনন্দে কাটাতে চাই। বিভিন্ন পত্রিকায় লিখছি। আজকাল অনলাইন অনুষ্ঠানে লেখাগুলো পড়ার সুযোগ হয়েছে। এই সুযোগে নতুন লেখাগুলো পড়তে পারি । অনেকের ভালোবাসা পেয়েছি। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এভাবে আমার কথা আমি বলে যেতে চাই লিখে যেতে চাই। আমার একটা লেখাও যদি অন্যের হয়ে ওঠে তাহলে সে লেখা সার্থক হবে। সেদিনের অপেক্ষায় আছি। আমার নিজ জেলার আঞ্চলিক ভাষাতেও কিছু কবিতা লিখেছি। লিখছি । তা যেন ছড়িয়ে দিতে পারি সবার কাছে । আমার নেত্রকোনার ভাষা সবাই বুঝতে পারুক । নেত্রকোনাকে ভালোবাসুক। “হাওরের পক্ষি আমি উড়াল দিছি উজানে, একটু জাগা যেন পাই তুমরার উঠানে। বইতে দিও কইতে দিও পরানের কিছু কতা, ভালাবাসার গাছে হইবাম মায়া বংশের লতা।” হাওড়ের পানির মত মানুষের সরলতা আমাকে মুগ্ধ করে। এই মুগ্ধতা নিয়ে লিখতে চাই। লেখার বিষয়টা হলো নেশার । কেউ বললে লেখাও যায়না ছাড়াও যায় না। তাই যতদিন লেখা আসবে ততদিন লিখব। নিজের আনন্দে লিখে যাব। কারো কাছে হয়তো কোন দাম নেই কিন্তু লেখাগুলো আমার অমূল্য সম্পদ। মাহবুবা ফারুক
১ Comment
congratulations