২১২ বার পড়া হয়েছে
স্বজনরা আজো ভালবাসতে বেঁচে আছেন।
[ইশতিয়াক রুপু]
উত্তরের সুরমা আগের মতই পশ্চিমে ভাটির টানে বহে যায়।বরাবরের ন্যায় প্রতিদিন ভোরে জেগে উঠে শহর।একটি দুটো রিক্সা ও সি এন জি রাস্তায় নামে।এখন আবার রিক্সা দুজাতের।পায়ে চলা কোনটা আবার মোটরে চলে।ধীরে চলা রিক্সা আজো ধীরে চলে।মোটর রিক্সার গতি প্রায় বিমানের ন্যায়( চালকরা তাই ভাবে) চালকের হাতের মুঠোর বার বার মোচড়ে গতি যত বাড়ে পাশাপাশি যাত্রীর তত বাড়ে হৃদস্পন্দন।বেশির ভাগ চালক কম বয়সী কিশোর।রিক্সায় চড়ার পূর্বেই নানা শর্ত।এদিকে যাবো না।সদর রাস্তায় উঠলে পুলিশ আটকাবে,ভাড়া বেশি দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।কখনো চলে লুকোচরি।
অতএব নগদ নোটে সমঝোতা।রাস্তা জুড়ে হেলে দুলে চলে তিন চাকার অটো ।সর্ব্বোচ আদালতের আদেশ মেনে মানবিক বিবেচনায় সীমিত ভাবে রাস্তায় চলছে অটোযান।শহরের অলি গলি সহ সদর রাস্তায় নানা জাতের যানবাহনে সয়লাব।আলফাত স্কোয়ারের সুবিশাল মোড়ের সব কয়টি রাস্তায় যানবাহনের সরব উপস্থিতি।শত শত মোটর সাইকেল দ্রুত গতিতে ছুটছে একে বেকে পাশের জনকে পিছনে ফেলে।দেখে মনে হয় প্রতিটি শহর বাসীর চলায় যেনো ভীষন তাড়া।পায়ে হেটে চলা শহর আজ দ্রুত গতির নানা জাতের যানের দখলে।হাতে গোনা ২/৩ টি ছোট আকারের সবুজ জীপের শহরে আজকাল দু ডজনের বেশি প্রাডো ব্রান্ডের জীপ গাড়ি চলে পতাকা উঁচিয়ে।যে শহরে কালো ভদ্রে আসতো পতাকাবাহী যান আজ সেই শহরের পাড়া মহল্লার গলির মুখে দু চার খানা পতাকা গাড়ি দুপুরের রোদ থেকে বাঁচতে পুরাতন রেইনট্রীর গাছের ছায়ায় ঠায় দাঁড়িয়ে।পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে মার্কেট আর দোকানের সারি।হাত বাড়ালেই মোড়ের দোকানে তেল মশলা আর চাল আটা সহ সাবান শ্যাম্পুর এমনকি বিদেশী পানীয়ের বিশাল পশরা।তাজা ফুলের দোকানে কিশোর পিচ্চির হাত ব্যস্ত তাজা গোলাপ দিয়ে ফুলের তোড়া তৈরীতে।শহরের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে জোড়ায় জোড়ায় বিশেষ অতিথি আর প্রধান অতিথিদের বসবাস।বৎসরের পুরো সময় ধরেই চলে উৎসব।টাকা বানানোর উৎসব।আপন রাজ্যে কার আসন কত দামী তা দেখানোর উৎসব।ছোট বেলা দেখতাম ঈদগাহ ময়দানে বাৎসরিক ওয়াজের সময় পেরেশান ভক্তের দল হুজুরের পাগড়ি আকড়ে ধরে বয়াত নিতেন।

আজকাল প্রিয় ভক্তরা হুজুরদের উচিত বা অনুচিত নির্দেশ পালন করে আনুগত্যের পরিক্ষা দেয়।ছোট্ট শহরের ভোরে পাখিরা নিজ পছন্দে ইচ্ছে মত,মনের আনন্দে আর শীষ দিয়ে ভালবাসার গান গায় না।সেই প্রাণখোলা হাসি আর আনন্দ নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করবার দিন ফুরিয়ে গেছে।আজকাল আলাপ আর সৌহার্ধের রেশনিং চলছে দামী সুয়াবিন তেলের মত।রাজা মহারাজাদের নিজস্ব বাহিনী আজ সর্বত্র। উঁচু ভবনে যেমন সচল তেমনি শহরের নানা চৌরাস্তায়।বাসার পাশে পাঁচটি বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা কিশোর কিশোরীদের জটলা জুড়ে কমবয়সী রোমিওদের মটর বাইকে মহড়া এড়িয়ে যাওয়া যায় না।সহপাঠিদের বিব্রত করবার অপরাধে নিজেও অপরাধী বটে। তবে আশে পাশে বার বার দেখে নেয়া জরুরী ছিলো।ডিজিটাল রোমিওদের মাঝে তা চোখে পড়েনি।এগিয়েছে আমার ছোট্ট শহর।সত্য বচনে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় শহর আক্রান্ত।পদ পদবী আর ক্ষমতার পক্ষে মনকাড়া অনুগত ভাষায় আলাপ আলোচনা বাঞ্চনীয়।নিজ পথে আর মতে যারা আছেন তাদের পিঠে ব্যাথা হয়ে গেছে সাবাসের থাপ্পড় খেতে খেতে।আর কিছু দলছুট ভদ্রজনেরা আশংকায় থাকেন কবে, কখন পরনের সাদা কাপড়ে রাস্তায় জমে থাকা, কাদা মিশানো জলের ছিটা পড়ে কাপড় ও সম্মান দুটোই নষ্ট হয় বিনা কারনে যুব বিপ্লবের ম্যাজিক ছোঁয়ায়।নিত্য নতুন আলো ঝলমল দোকান কোঠায় পশ্চিমা ডিজাইনের স্মার্ট সার্ট আর রেঙ্গলার জিন্সের ট্রাউজার দিয়ে সাজানো থাক চোখে পড়ছে বেশ কয়েক বার।তবে আমাদের উত্তরসুরী যারা লুঙ্গী আর তহবন পরিধান করে সংগ্রাম করেছিলেন স্বাধীন ও সাম্যের সমাজ গঠনে।তাদের স্মরন করতে সমাজের বড় ও ক্ষমতাবান মহলের বেশ কৃপনতা যে চেপে আছে তাও চোখ এড়িয়ে যায় নি।অভাব টের পেয়েছি রক্তের বন্ধন না হলেও স্নেহের টানে আবদ্ধ ছিলাম যার নিকট সেই মহানের স্থায়ী অনুপস্থিতি।
অসময়ে না ফেরার দেশে চলে যাবার ফল।ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে যার ডাক আসতো।চলে আসো।তোমারই প্রিয় কিছু মুখ তোমাকে দেখার অপেক্ষায়।সে ডাক দেশ বাসের ৪২ দিন জুড়ে একটি ভোরেও যেমন আসেনি তেমনি আসেনি স্মৃতি স্মরন আয়োজনে যোগ দেবার অনুরোধ।কেউ কাউকে স্মরনে রাখতে চায় না আজকাল।চেয়ারধারী সম্মানিতরা ভীড় হ্রাসে মনযোগী বেশি।তবে কেউ কেউ সাহস করে ভিন্ন পথে হাঁটছেন।বিবেক জাগ্রত বলেই ভালবাসা ও শ্রদ্ধার পুষ্প শোভা তুলে দিলেন দু চারজন গুনীর হাতে।যাদের সংখ্যা স্বল্প তবে সমাজ স্বীকৃত।আজকাল বেশির ভাগ সমাজপতিরা বর্তমান নিয়ে বেশি ব্যস্ত।শ্বাস টেনে নেবার বেলায় ক্ষমতার দিকে চোখ ও ধ্যান রাখেন। যাতে কক্ষচূতি না ঘটে।কেউ কেউ সহচরে সানিধ্যে বেজায় খুশি।কারো চাই গোটা সাম্রাজ্যের সব কয়টি আসন। রাজনৈতিক আসনের পাশাপাশি সামাজিক আসন।সব চাই। সেই সব সত্য বচনের চর্চায় তেড়ে আসেন চেতনার ভারপ্রাপ্ত নিকট জনেরা।ঝাল নোনতা আর মিষ্টির আপ্যায়নে প্রচুর ভালবাসা থাকলেও প্রয়োজনে ভুলে যেতে বা দুরে ঠেলে দিতে মেধাবীদের ভীড় মনে হলো জ্ঞানী আর অজ্ঞানদের আসরে।সেই মেধাবী জনেরা স্মরন করিয়ে দিলেন ফেলে আসা দিনের কয়জন খোলা মনের প্রিয় জনদের।
একসময় শহরে কিছু মায়ার জনেরা বাস করতেন।যারা কখনো হিসাব কষে চলতেন না।শেষ বয়সে কারো বৈশয়িক হিসার না মিললেও সম্মান আর ভালবাসার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স হিসাব করলে বিল গেইটস কে ছাড়িয়ে যাবে।আজকাল তেমন মন আর বিলাস নিয়ে চলার লোক জনের বড্ড অভাব।একজনের কথা না বললেই নয়।তিনি প্রয়াত ফজলুল হক। প্রথম সারির ক্রীড়াবিদ ছিলেন।ক্রিকেটে ভাল বল করতেন।ব্যাডমিন্টনে জেলার সেরা খেলোয়াড়।কোন এক কারনে আমাকে শশুড় ডাকতেন।শহরের প্রথম সারির ধন্যাঢ্য পরিবারের জৈষ্ঠ্য সন্তান। জীবনভর টাকা পয়সার অভাব দেখেননি বলে আমি জানি।বিখ্যাত স্টেশন রোড়ে বর্তমান বাস স্টেন্ডের লাগোয়া ঢেউ টিন আর বাঁশের তৈরী খাবার দোকান ছিলো আঙ্গুর ভাইয়ের ।বাজার থেকে বাছা বাছা মাছ কিনে এনে নিজ হাতে রান্না করতেন।সেই দামী খাবারের দামী খরিদ্দার ছিলেন ধনী ঠিকাদারগন।যারা খাবার খেতেন রাজসিক নমুনায়।মরহুম ফজলুল হকের নিজ বাসার সামনে চলতো এসব রাজসিক কারবার।ভাল জাতের মাছ বিশেষ করে বড় আকারে…
নিউইয়র্ক /আমেরিকা
১ Comment
congratulations