প্রিয় হাদী
মো. ওসমান গনি
আজ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা একটি নাম
শরীফ ওসমান হাদী
চির বিস্ময় চির অম্লান
বুলেটে কেড়ে নিতে পারেনি তোমার রাজমুকুট
রাজসিংহাসন
অগ্নিবীণার ঝংকার
আগুনের ফুল্কির মতো এক মৃত্যুঞ্জয়ী তুমি
বাংলার প্রতিটি ঘরে জ্বলিয়েছ আলোর মশাল
জন্ম দিয়েছে লক্ষ কোটি নির্ভীক রক্তনিশান
বাংলার টকবকে যুবকেরা মিছিলে মিছিলে চিতিয়েছে বুক
বুকে নেবে গুলি
গুলিতে গুলিতে শোধরাবে মৃত্যুঞ্জয়ীর প্রতিশোধ।
যে হিংস্র হায়েনারা চোরের মতো তোমায় বুলেট বিদ্ধ করেছে
তারা জানে না তারা নপুংসক
তারা জঞ্জাল
তার দুর্গন্ধময় নরকের পতিত কীট
তারা ভেবেছিলো বুলেটে মাথার খুলি উড়ালে বুঝি মৃত্যু হয়
তারা ভীষণ ভীতু, তারা কাপুরষ
তারা জানে না বীর-বাহাদুরেরা কখনো মরে না
মৃত্যুঞ্জয়ী বীরেরা যুগে যুগে উন্নত শিরে রাশ করে ইতিহাসের পাতায়, প্রলয়ে-সংকটে
প্রিয় হাদী
বাংলার ইতিহাসে তুমি ক্ষণজন্মা-চির অম্লান
তোমার স্ব উজ্জল হাসিমুখ- সম্মোহনী চোখের মাদল
বজ্রকন্ঠের প্রলয় ধ্বনিতে প্রকম্পিত রাজপথ
তুমি বিদ্রোহী কবি নজরুল, তুমি মহাবীর আলেক্সান্ডার
তুমি শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ
তুমি রবি ঠাকুরের শেষের কবিতা
তুমি মাও সে তুং, তুমি চেগুয়েভা, তুমি পলাশির প্রান্তর
আমি আমি তুমি, তুমিটাই সেই আমি
তোমার আত্মত্যাগের অমর কাব্য গাঁথা রবে মোড়ে মোড়ে ক্যানভাসে- হৃদয় অলিন্দে
তুমি কীর্তিমান- তুমি আলোর দিশারি
বর্ণমালার প্রতিটি শব্দে তোমার বিজয়কাব্য
চির উন্নত শিরে প্রলয় ঝঞ্জা
বজ্র ধ্বনিতে প্রকম্পিত রাজপথ
তোমার মৃত্যুতে শোক জানাতে নয় বদলার শফথ
প্রতিটি ফোটা রক্তের হিসেব নেবোই নেবো
যুবক বৃদ্ধ শিশু, আকাশের ধ্রুবতারা আগ্নেয়গিরি সমুদ্রের জল
উত্তর হতে দক্ষিণ মেরু-ভূমন্ডল হতে সৌরজগৎ
নিশান উচিয়ে বুক চিতিয়ে গাইছে তোমার বিজয়গাঁথা
হাদী তুমি ক্ষণজন্মা ইতিহাসের মহা-মানচিত্র।

