অচেনা আয়নার কারিগর ও রক্তে ভেজা মানচিত্র
আমিনুল ইসলাম
১.
যেখানে থমকে ছিল কালো ছায়া, পাথুরে দেয়াল—
আমরা ভেঙেছি তারে, চুরমার হলো সব মায়া।
তলোয়ারে ধার দিয়ে যারা ভেবেছিল রাজত্ব অক্ষয়,
তাদের মুকুট আজ ধূলিসাৎ, নেই কোনো ভয়।
ভেবেছিলাম ভোর হবে, ঘুচবে আঁধার—
রক্তের দামে কেনা এই মুক্তি, বড় হাহাকার!
২.
শহীদের চোখের মণি ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলে ছিল,
পঙ্গু হাতের শিরায় কি তবে বিষাদ কেবলই ছিল?
বিধবার সাদা শাড়ি প্রশ্ন করে এই মাঝরাতে—
নতুন জহুরি কি তবে পুরনো বিষই রাখে হাতে?
আমরা চেয়েছি এক মুক্ত আকাশ, পাখির ডানার গান,
বিনিময়ে কেন তবে শুনি আজ শৃঙ্খলেরই ঘ্রাণ?
৩.
ফ্যাসিস্টের প্রেতাত্মা কি তবে ছদ্মবেশে ফিরে আসে?
মুখোশ পাল্টে কেউ কি আবার সিংহাসনে হাসে?
যে লাঠি পিষেছিল ছাত্রের হাড়, জবান করেছিল বন্ধ—
সেই লাঠি আজ কার হাতে গড়ে নতুন এক ধন্দ?
রূপকথা বুনে বুনে আমাদের ভুলানো কি যায়?
বাংলার মাটি আজও ভিজে আছে শহীদের শেষ রক্তে আর ঘামায়।
৪.
আয়নায় দেখি আজ নিজেরই মুখ— বড় অচেনা লাগে,
বিপ্লব মানে কি তবে শুধু ক্ষোভ, যা শুধু প্রতিহিংসায় জাগে?
নিপীড়ন যদি না যায়, যদি না ফেরে মানুষের সম্মান,
তবে কেন অকাতরে দিল ওরা লক্ষ কোটি প্রাণ?
কারাগার শুধু পাল্টায় নাম, শিকল কি তবে পাল্টায় না?
মানুষের হাহাকারে কেন তবে আজো উত্তর মেলে না?
৫.
হে নতুন কারিগর, শুনে রাখো এই বাংলার ডাক—
রক্তের আল্পনা মুছবে না সহজে, স্মৃতিরা জাগিয়া থাক।
আমরা তাড়িয়েছি এক রাক্ষসকে, অন্যকে গড়ার লাগি নয়,
গণতন্ত্র মানে কি তবে ফের শাসনের নামান্তর ভয়?
যদি না ফেরে অধিকার, যদি না থামে এই হাহাকার—
তবে জেনে রেখো, এই বাংলায় ফের জাগবে রুদ্র অবতার!
৬.
এখনও সময় আছে, ফেরাও সেই স্বপ্নের নিশান,
যাতে শ্রমিকের ঘাম আর শহীদের রক্তের থাকে মান।
বাংলার জনগণ ভিক্ষা চায় না, চায় তার নিজের অংশ,
স্বেচ্ছাচারিতার জাল বুনে কোরো না স্বপ্নের ধ্বংস।
নইলে এই ধুলোবালি, এই পথ, এই রাজপথ ফের কথা কব—
অন্যায়ের শেষ দেখে তবেই আমরা শান্ত হয়ে রবো।
৭.
ইতিহাস নির্মম বড়, সে কাউকে দেয় না তো ছাড়—
ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হলে, ভেঙে পড়ে সব অহংকার।
জনতা তাকিয়ে আছে, রক্তচক্ষু আজও নিভে যায়নি,
মিছে আশ্বাসের ঘুমে এই বাংলা কক্ষনো হার মানেনি।
হয় মানুষের জয় হবে, নয়তো চিতার আগুন ফের জ্বলবে—
এই মাটি, এই ঘাস, একদিন হন্তারকের নাম ধরে বলবে!

