৩৪৩ বার পড়া হয়েছে
জসিম
মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা
চলচ্চিত্র অভিনেতা
জন্ম: ১৪ আগস্ট ১৯৫০
মৃত্যু: ৮অক্টোবর ১৯৯৮
আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন।পেশাদার নাম জসিম নামেই অধিক পরিচিত। চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, ফাইট পরিচালক ও একজন মুক্তিযোদ্ধা। অনেকেই তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশনের পথপ্রদর্শক হিসেবে মনে করেন। তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা আজিমের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়।
জসিম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। জসিম ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে দুই নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
৯০ এর দশকে একটি ছবির শুটিং এর সময়ে জসিম
জসিম আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। জসিম চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন দেবর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে। এই ছবিতে জসিম চলচ্চিত্র পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ১৯৭৩ সালে তিনি রংবাজ ছবিতে অ্যাকশন ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন তিনি। তিনি পরিচিতি পান দেওয়ান নজরুল পরিচালিত দোস্ত দুশমন চলচ্চিত্রে খলনায়কের অভিনয় করে। খলনায়ক চরিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করলেও পরবর্তীকালে নায়ক হিসেবেও তিনি সফলতা পেয়েছিলেন। দোস্ত দুশমন ছবিটি সাড়াজাগানো হিন্দি চলচ্চিত্র শোলের পুনর্নিমাণ। ছবিটিতে তিনি গাফফার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। খোদ শোলে ছবির নামকরা চরিত্র গব্বার সিং এর আদলে থাকা ভারতীয় খলনায়ক আমজাদ খান পর্যন্ত ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন জসিমের। তার খলনায়ক অভিনয়ের সমাপ্তি ঘটে ‘সবুজ সাথী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। সবুজ সাথী চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নায়ক হিসেবেই অভিনয় চালিয়ে যান।
আশির দশকের সকল জনপ্রিয় নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন এই অ্যাকশন অভিনেতা। তবে শাবানা ও রোজিনার সাথে তার জুটিই সবচেয়ে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাকে শোষণ-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যায়।
জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ড্রিমগার্লখ্যাত নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবির নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন । জসিমের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল, সামি । যার মধ্যে রাতুল ও সামি ‘ওউনড’ ব্যান্ডের বেজিস্ট ও ড্রামার আর রাহুল ‘ট্রেইনরেক’ ব্যান্ডের গিটারিস্ট।
চলচ্চিত্রের তালিকা
দেবর (১৯৭২)
রংবাজ (১৯৭৩) – জসিম
ভাইবোন (১৯৭৪)
এপার ওপার (১৯৭৫) – আসলাম
প্রতিনিধি (১৯৭৬)
এক মুঠো ভাত (১৯৭৬)
কাজল রেখা (১৯৭৬)
নিশান (১৯৭৭)
দোস্ত দুশমন (১৯৭৭) – গাফফার খান
রাজদুলারী (১৯৭৮)
আসামী হাজির (১৯৭৮) – ডাকু ধর্মা
তুফান (১৯৭৮)
মহেশখালীর বাঁকে (১৯৭৮)
নাগ নাগিনী (১৯৭৯)
বিজয়িনী সোনাভান (১৯৭৯)
সুন্দরী (১৯৭৯) – ঈমান আলী
প্রতিজ্ঞা (১৯৮০)
কসাই (১৯৮০)
নবাবজাদী (১৯৮১)
বাঁধনহারা (১৯৮১)
ওস্তাদ সাগরেদ (১৯৮১)
সবুজ সাথী (১৯৮২)
লাইলী মজনু (১৯৮৩) – ডাকু সর্দার
ঘরের বউ (১৯৮৩)
জনি (১৯৮৩)
নাজমা (১৯৮৩) – জাফর মির্জা
অভিযান (১৯৮৪) – রউফ
জিদ্দি (১৯৮৫)
আক্রোশ (১৯৮৬)
অশান্তি (১৯৮৬)
নিষ্পাপ (১৯৮৬)
রকি (১৯৮৬)
লালৃু মাস্তান (১৯৮৭) – রাজু / লালু
সারেন্ডার (১৯৮৭) – জসিম
মাস্তান (১৯৮৭)
সুখ শান্তি (১৯৮৭)
আদিল (১৯৮৮)
ভাইজান (১৯৮৯) – লাট
ছোট বউ (১৯৯০)
ধনরত্ন (১৯৯০)
কাজের বেটি রহিমা (১৯৯১)
ন্যায় অন্যায় (১৯৯১)
লক্ষ্মীর সংসার (১৯৯২)
শান্তি অশান্তি (১৯৯২)
হিংসা (১৯৯৩)
নাগ নাগিনীর প্রেম (১৯৯৩)
আশিক প্রিয়া (১৯৯৩)
কালিয়া (১৯৯৪) – কালিয়া
বাংলার নায়ক (১৯৯৫) – ডন
ঘাত প্রতিঘাত (১৯৯৬)
গরীবের সংসার (১৯৯৬)
গরীবের ওস্তাদ (১৯৯৬)
নিষ্ঠুর (১৯৯৬)
স্বামী কেন অাসামী (১৯৯৭)
ফাইভ রাইফেলস (১৯৯৭)
টাইগার (১৯৯৭)
মেয়েরাও মানুষ (১৯৯৮)
ভালবাসার ঘর (১৯৯৭)
দুই রংবাজ
জবাব
বদলা
যাদুনগর
গর্জন
মোহামম্দ আলি
আখেরী মোকাবেলা
হিরো
বাইদা
রাজা বাবু
গরিবের মাস্তান
স্বামীর আদেশ
বিজয়
ওমর আকবর
পরিবার
রক্তের বদলা
সাহস
গর্জন
হাবিলদার
শত্রুতা
মান সম্মান
প্রতিহিংসা
জিজ্ঞাসা
রূপসী নাগিন
মৃত্যু সম্পাদনা
জসিম ১৯৯৮ সালের ৮ই অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে পরলোকগমন করেন । জসিমের মৃত্যুর পর এফডিসিতে তার নামে একটি ফ্লোরের নামকরণ করা হয়।