কার্পাসডাঙ্গায় নজরুল
।।এবিএম সোহেল রশিদ।।
.
রেলগাড়ির হুইসেল বাজিয়ে সপরিবারে তরুণ কবি
বর্ণমালার প্রেমিক, ব্রিটিশ শাসকের চক্ষুশূল
এঁকেছে প্রজ্ঞায়, আন্দোলনের রৈখিক চিত্র
ছিঁড়বেন শৃঙ্খলের জিঞ্জির, রাজনীতির ঘোর টোপে
নিয়েছিল পদক্ষেপ নির্ভুল, কার্পাশডাঙ্গায় নজরুল।
.
এখনো বিদ্রোহী পায়ের শব্দে, কেঁপে ওঠে
দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় নরম মৃত্তিকা।
গোরুর গাড়িতে ঝাকড়া চুলের তেজোদ্দীপ্ত সওয়ারী
দেখেছিল তৃতীয়চোখে, দুখিনী মায়ের মলিন মুখ!
মেরেছিল সজোরে কাব্যকথার নির্ভীক চাবুক।
.
ভৈরব নদের কুলকুল ধ্বনি উসকে দিত আগুন
বিক্ষুব্ধ শব্দমালায় পাঠ হতো স্বাধীনতার চিত্রকল্প
কবিতার ঢেউয়ে, দ্বিগুণ দ্রোহে, উদিত রক্তিম অর্কে
উচ্চারিত হতো শেকল ভাঙার নিখাঁদ পঙক্তি
রুখে দিত মেধার স্বতঃস্ফূর্ত স্ফুরণে ব্রিটিশের দম্ভোক্তি।
.
হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের আটচালা ঘরে একাকী বসে
এখনো শুনতে পাই, শিশুতোষ ‘লিচু চুরি’ কবিতাখানি
‘মৃত্যুক্ষুধা’ ও ‘পদ্মগোখরো’র মতো উজ্জীবিত উপাখ্যান
মানবিক প্রেমের লড়াইয়ে এখনো প্রবাহমান।
.
খড়ের চালায় ঝুলে আছে ক্রুশবিদ্ধ মানবতা
মাটির বিছানায়, কবি’র সংস্পর্শে রক্তপল্লব
শিখিয়েছে কষ্টসহিষ্ণু পরিস্থিতিতে কী করে করতে হয় যুদ্ধ
লুটেরারা কী ভাবে হবে অবরুদ্ধ! কী করে হবে বিপ্লব।
.
এখনো আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়
শ্রমিক-প্রজা-কৃষক পার্টির গগনবিদারী স্লোগান
ব্রিটিশ উৎখাতের ‘কবিতা বোমা’ নিখুঁতভাবে ছুড়তে
উনিশশো ছাব্বিশে মাত্র সাতাইশ বছরে বয়সে
সবুজে ঘেরা পল্লী কুটিরে লিখেছেন মুক্তির জয়গান।
.
বিপ্লবি হেমন্ত কুমার ও মহিম সরকারের হাত ধরে
রেখেছিলেন যে পা নিশ্চিন্তপুরে মুক্তির শপথে
দুটি ফুল, আভা রানী ও শিউলী রানী সযত্নে তালীম নিয়ে
গাইতেন সেই স্বরলিপি, প্রাণ খুলে, নজরুলেরই সান্নিধ্যে।
.
ব্রিটিশ গেছে, পাকিস্তান গেছে, তবু হয়ে আছ অমলিন
নজরুল, তোমার কাছে জমা আছে আমার দেশপ্রেমের ঋণ
এখনো অধিকারের অন্দোলনে, মানবতার সংগ্রামে
তোমার কালোত্তীর্ণ সাহিত্য, সাহস জোগায় বিদ্রোহী শিরোনামে।
১৬৭ বার পড়া হয়েছে