ভালোবাসার ঋণ
বনলক্ষী আলমগীর
বড় হতে হতে দেখি শৈশব ছাড়া
গোটা জীবন পরাধীন।
আমি এখন দিগন্তে ছুটি ধুলা বালির খুঁজে
ভুলে গেছি ছোটবেলার অবাধ স্বাধীন জীবন।
হৈ চৈ করে গায়ে ধুলো মাটি মেখে
খেলা শেষে পড়ন্ত বেলায় চুপি চুপি
বাড়ি অভিমুখে মায়ের বকুনি এড়িয়ে
চাপ কলের ঠান্ডা পানিতে সারা দিনের
ক্লান্তি মুছে তাড়াতাড়ি করে
হারিকেনের আলোয় পড়তে বসা।
বড় হয়ে দেখি অনেক কিছুই ভুলে গেছি জীবনের।
ভুলে গেছি ভেতর থেকে আসা হাসি কান্না।
ভুল করে আসে না সেই অবুঝ জীবনের হাসির বন্যা।
ঝরা শেফালীর পথ চেয়ে থাকি
নির্বাক নয়ন মেলে।
মাঝে মাঝে আমি থমকে যাই
চায়ের কাপে হাত রেখে।
কেমন করে হারিয়ে গেলো সোনা রং দিনগুলি।
নিঃস্বার্থ জীবনের ভাবনাহীন ছোটবেলার
সেই মিষ্টি মধুর দিনগুলি।
উড়ে উড়ে চলে যায় অতি দ্রুত নীল আকাশের নীল নীলিমায়।
বে ভুলো মন আমার কেবলই এই পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে
যেতে চায় সেই দুরন্ত শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলিতে।
যেখানে ফেলে এসেছি মা বাবার, ভাই বোনের
মমতার বন্ধন।
ফেলে এসেছি বাল্য সাথীদের
সাথে কাটানো সেই স্বপ্নময় দিনগুলি।
ফিরে পেতে চাই আবার
বিশাল একটা আকাশ
এলো মেলো বাতাস
অপরূপ পাখির ডাক
সন্ধ্যা হলে জোনাক জ্বলা আলো-আঁধারিতে
খুঁজে নেবো আমার দুরন্ত শৈশব।
ফিরে যেতে চাই মমতার কাজল মাটিতে
যেখানে ফেলে এসেছি আমার শৈশব
ফিরে যেতে চাই ফেলে আসা দিন
ভালোবাসার কিছু কিছু ঋণের কাছে।

