২০৭ বার পড়া হয়েছে
ওই তো মহাপথ
মীনা সাহা
পূর্ব নির্ধারিত তরঙ্গ রেখায় প্রতিদিন ফিরে যাওয়া
স্তব্ধ দেওয়াল চারদিক ঘিরে মৃতেরাও কথা বলে
নক্ষত্র শহর ছুঁয়ে ইউসুফ-জুলেখা
ঢুকে পড়ে দর্পণে
ভেসে ওঠে প্রতিবিম্ব
আত্মাবিষ্কার – স্বপ্নবিভোর রঙিন আতশবাজি
জীবন্ত মানুষের দেশে
ফুল-ফল – কচি পাতা আর শিশিরের মৃদু স্পর্শ ভেঙে ওঠা সূর্য
নিমেষে বদলে যায় শ্বাপদের উন্মত্ত কোলাহলে
দুঃসহ-যন্ত্রণার নিদারুণ অভিঘাত পৃথিবীর বুক জুড়ে
অশ্লেষা নক্ষত্র হেঁকে যায় কাল-সর্প যোগে
প্রাসাদ জুড়ে শূন্যতার অন্ধকার সভ্যতার ঘুম নীরবতা পালন করে
জেগে থাকা যন্ত্রণা রাত প্রহর গণনায়
রক্ত – মাংসের শরীর ক্ষয়ে ক্ষয়ে ভয়ার্ত মৃত সন্ধ্যায়
অনিবার্য আত্মজিজ্ঞাসা ঘিরে
নক্ষত্র শহর ছুঁয়ে একালের ইউসুফ-জুলেখা নতুন কাব্য লেখে
জর্ডন নদীর পবিত্র জল ছুঁয়ে হেঁটে যায় ক্রুশ বিদ্ধ যীশুর দিকে
গির্জার ঘন্টার ধ্বনি দোলা দিতে দিতে
তখন সন্ধ্যারাত
অবাধ অপরূপ জোৎস্না মাথার উপর
জীবনের চারপাশে ইউসুফের সুবর্ণ শরীর থেকে
প্রেম – প্রেরণার প্ৰদীপ্ত আলোয় জুলেখা এগিয়ে চলে
একাত্ম জোৎস্না শুদ্ধ হিল্লোলে
মনজোৎস্নায় মাখামাখি রাত
নরম আলোর উত্তাপ মোমের শিখায়
গির্জা প্রাসাদ জুড়ে পরম সে স্নিগ্ধতা
শেষ নৈশ আহার সেরে ভগবান যীশু চলে এলেন নিজেই
কাপুরুষ জঘন্য পশুদের শিকার পথে
নিজেকে বিলিয়ে দিলেন সুদীর্ঘ ভয়ঙ্কর যন্ত্রণার ক্রুশ-কাঠে
উম্মিলিত চিরায়ত পবিত্র আলোর সন্ধানে
মানবাত্মার গানে গানে
জ্যোতির্ময় সে রূপ জাগ্রত আবার
মানবাত্মার পুনর্জন্ম …জাগরণ…
মানুষে মানুষে একাত্ম আত্মায়
জীবনে জীবনে একাত্ম নিষ্ঠায়
ভগবান যীশু চলেছেন…চলেছেন…
ওই তো মহাপথ…
ওই তো মহাপথ…