জার্মান প্রবাসী একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক নাজমুন নেসা পিয়ারিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ: কানাডা প্রবাসী নাদিম ইকবাল।
নাজমুন নেসা একজন প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক। তিনি বর্তমানে জার্মানির বার্লিনে বসবাস করছেন। কবিতা ও সাংবাদিকতা—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা ও সাহসী উচ্চারণের জন্য পরিচিত। প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, শেকড়ের টান, নারীর আত্মপরিচয় এবং সমসাময়িক সমাজবাস্তবতা তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
কবিতায় নাজমুন নেসা মানবিক অনুভব, প্রেম, বিচ্ছিন্নতা ও প্রতিবাদের ভাষা নির্মাণ করেন গভীর আবেগ ও চিন্তাশীল শব্দচয়নে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি সত্যনিষ্ঠা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন দেশ-বিদেশের নানা বাস্তবতা।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন। তিনি বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদেরীর প্রাক্তন সহধর্মিণী। ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার বহুমাত্রিকতা তাঁর লেখাকে করেছে আরও গভীর ও অর্থবহ।
কবি ও সাংবাদিক—এই দুই পরিচয়ে নাজমুন নেসা সমকালীন বাংলা সাহিত্য ও গণমাধ্যমে এক স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।
চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে ‘ডয়েচে ভেলে’ তে।১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ শাঁওলীরা জার্মানির কোলনে ছিলো। কারণ বাবাও তখন ‘ডয়েচে ভেলে’ তে বাংলা বিভাগে সাংবাদিকতা করছেন। তখন সেখানে পশ্চিম বঙ্গের বিখ্যাত কবীর সুমনও ( তখন সবাই সুমন চট্যোপাধ্যায় নামেই চিনতো) ছিলেন। আরও ছিলেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আলফাজ তরফদার, আব্দুস সাত্তার , অনমিত্র সেন গুপ্ত, শুভ্রা দাস গুপ্তা, আব্দুল মতিন প্রমুখ। তখন আরও ছিলেন ফজলুর রহমান, যিনি পরে শাঁওলীর আত্মীয় খালেদা ফুপুকে বিয়ে করে আমাদের প্রিয় ফজলু ফুপা হয়ে যান। আমরা জার্মানি গেলেই এই ফুপার এখানেই উঠি।
যাইহোক সেই তখন ইনারা সবাই যে দূর্দান্ত আড্ডা দিতেন তার ওনেক গল্প শুনে আমার খুব আফসোস হোত! আসাদ চৌধুরী , সুমন চট্যোপাধ্যায়, নাজমুন নেসা, আব্দুল্লাহ আল ফারুক! নিশ্চয়ই যে ঘরে আড্ডা দিতেন সেটা কেঁপে কেঁপে উঠতো।
নাজমুন নেসা যাকে আমি আন্টি বলে ডাকি তিনি এখনো যেই সুন্দরী আর তখন তো বলার অপেক্ষা রাখেনা…। তাঁর ছাত্রী থাকা কালের একটা সাদাকালো ছবি দেখে আমি বলেছিলাম যে সে সময়ে আমি দেখলে প্রথম দর্শনেই মহা প্রেমে পরতাম নির্ঘাত।
যাক আসল প্রসঙ্গে আসি_ ২০১৭ সাল। আন্টি আমাকে তার একটা ছবি তুলে দিতে অনুরোধ করলেন। সেই ছবি হবে কার্জন হলের কাঠের সিড়িতে তার দাড়িয়ে থাকা একটা মূহুর্তের। তিনি অনেক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। স্মৃতি বিজড়িত সে সিড়িটি এখনোও সেই আগেরই মতো আর সেই সিড়ি বেয়ে উঠানামার অজস্র ইতিহাস!
আমরা একদিন সকালে বাংলা একাডেমি থেকে একটা রিক্সায় যাত্রা শুরু করি কার্জন হলের উদ্দেশ্যে। সেদিন পথে আর কার্জন হলের সিড়িতে কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম। আন্টির রাজকীয় ভঙ্গিমায় বসা দেখে আমার মনে হয়েছিলো এই ছবিটাও তুলি। আর এই নীচের ছবিটা সেই ২০১৭ সালের ঢাকা শহরের একটি দিনের একটি মূহুর্তের , যেটা কিনা রিক্সায়।

