বই সম্পর্কে শ্রেষ্ঠতম কথাটি বলেছেন ওমর খৈয়াম : ‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে। প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে। বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।’ অন্যদিকে অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন, ‘একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে অনেকাংশেই বোঝা যায়।’ আর রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, বই হলো অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধন।
গতকাল [১৭ নভেম্বর] মেমোরিয়াল ক্লাব বুকসের গ্র্যান্ড লঞ্চিং হলো পাবনার দিলালপুরে এ হামিদ মার্কেটে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সাথে আর্টের মেলবন্ধনে গ্রন্থবিপনীটি অনেক নান্দনিক এবং দৃষ্টিসুখকর হয়ে উঠেছে। উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক মজিদ মাহমুদ। মেমোরিয়াল ক্লাব তাঁর দ্বিভাষী উপন্যাসের নাম, যার ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছে আমেরিকার গডিবয়। বাংলায় চলছে চতুর্থ সংস্করণ। গ্রন্থবিপনী উদ্বোধনের আগে শিল্পী মনজুর রশিদের আঁকা লেখক মজিদ মাহমুদের প্রতিকৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এক্রিলিক মাধ্যমে আঁকা এই প্রতিকৃতিটি উপস্থিত সকলেই পছন্দ করেছেন।
পাবনা জেলা শহরে সৃজনশীল বইয়ের দোকান এটিই প্রথম। জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন : বই, বই এবং বই।’ পাবনার মানুষ ভাগ্যবান। সমকালের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল প্রকাশনা এবং অনুবাদ এখন হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে মেমোরিয়াল ক্লাব বুকস।
আল কোরানে মজিদে সংকলিত বাণীগুলোর মধ্যে প্রথম যে শব্দটি নাজেল হয়েছিল তা হলো ‘ইকরা।’ অর্থাৎ পড়ো। এটি একটা নির্দেশমূলক বাক্য : ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে।’ ইংরেজি করলে দাঁড়ায় : Read in the name of your Lord who created.
খৃস্টানদের পবিত্র গ্রন্থ বিশ্বব্যাপী পরিচিত বাইবেল নামে, যার অর্থ The Book. অর্থাৎ গ্রন্থ।
লেখক মার্ক টোয়েনের ঘরের মেজেতে থরে থরে সাজানো থাকতো বই। বিছানায় বই। ডাইনিং স্পেসে বই। এক বন্ধু উপদেশের সুরে বললো, তুমি দুয়েকটা শেলভ কিনে বইগুলো গুছিয়ে রাখলেই পারো। মার্ক টোয়েন জবাবে বললেন, বইগুলো যে প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করেছি সেই প্রক্রিয়ায় শেলভ জোগাড় করা সম্ভব না।
বই নিয়ে মজার একটি গল্প দিয়ে শেষ করছি। জর্জ বার্নার্ড শ এর শখের বাগান ছিল। এক প্রতিবেশীর ছাগল প্রায়ই বাগানে ঢোকে এবং পাতা ফুল নষ্ট করে। শ কয়েকবার নিষেধ করার পরও সেই প্রতিবেশী নির্বিকার। এরপর রেগেমেগে শ কয়েক পাতার একটি চিঠি লিখলেন ছাগলের মালিককে। চিঠির বিষয় ‘মানব জীবনে ফুলবাগান এবং সৌন্দর্যপ্রীতির গুরুত্ব।’ কয়েকদিন পর ঐ ছাগলওয়ালা শ’য়ের হাতে ১০০০ পাউন্ড দিয়ে বললেন : ‘স্যার, এই টাকাটা আপনার। আপনাকে প্রতিবেশী হিসেবে পেয়ে আমরা ধন্য।’ ছাগলওয়ালার এমন নরম ব্যবহারে শ প্রীত হলেন। টাকাটা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আপনার ছাগল সামান্য কয়েক পাউন্ডের ক্ষতি করেছে। সেটা আমি ভুলে গেছি। আপনি এখন আসুন।’ ছাগলওয়ালা : ‘স্যার, এটা আপনার রয়েলটি। আপনি আমাকে যে চিঠিটি লিখেছিলেন ওটা আমি আমার এক পরিচিত পাবলিশারের কাছে বিক্রি করেছি। ওরা আমাকে ২০০০ পাউন্ড দিয়েছে। এই অর্ধেক আপনার।’ শ এবার সত্যি রেগে গিয়ে ছাগলওয়ালাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন।
রফিক সুলায়মান : শিল্প-সমালোচক এবং নজরুল-কর্মী

